Bartaman Logo
৪ জুলাই, ২০২৬

বদ্রীনাথ-কেদারনাথে দানের টাকা নয়ছয়: চাপে পড়ে তদন্তের নির্দেশ মন্দির কমিটির, দোষ প্রমাণে শাস্তির আশ্বাস

বদ্রীনাথ ও কেদারনাথে দানের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মন্দির কমিটি। বিস্তারিত জানুন কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ।

বদ্রীনাথ-কেদারনাথে দানের টাকা নয়ছয়: চাপে পড়ে তদন্তের নির্দেশ মন্দির কমিটির, দোষ প্রমাণে শাস্তির আশ্বাস
  • ৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:২২
Prefer us on Google

চামোলি (উত্তরাখণ্ড), ৪ জুলাই: অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী ‘চুরি’র অভিযোগ ঘিরে বর্তমানে তোলপাড় দেশ। এর মধ্যে সামনে এসেছিল আরো এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। প্রণামি নয়ছয়ের ঘটনা ঘটেছে বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ মন্দিরেও! গত কয়েক দিনে একের পর এক এমন অভিযোগ ওঠার পরে শেষপর্যন্ত নড়েচড়ে বসল মন্দির কর্তৃপক্ষ। প্রবল চাপের মুখে গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

এই প্রসঙ্গে বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ মন্দির কমিটির (বিকেটিসি) চেয়্যারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী বলেন, ‘নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের জন্য একটি তদন্ত প্যানেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মচারীদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তদন্তে কোনো কর্মচারীর দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত কয়েক দিনে বদ্রীনাথ-কেদারনাথে দানের অর্থ নয়ছয়ের একের পর এক অভিযোগ উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকি মন্দির কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে টিএ-ডিএ অর্থাৎ ভ্রমণ-দৈনিক ভাতা বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন সমাজকর্মী বিকাশ সিং নেগি। জানা গিয়েছে, মন্দির অ্যাক্টের ২৬ (চ) ধারা অনুযায়ী কমিটির সদস্যরা শুধুমাত্র কমিটির কোনো কাজে কোথাও গেলে ভ্রমণ ভাতা পান। এক্ষেত্রে বিধায়কদের সমান প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টাকা অর্থাৎ কিলোমিটার প্রতি চার টাকা করে ভ্রমণ খরচ দেওয়া হয়। আরটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, গতবছর জুন মাসে বিকেটিসির সদস্যদের মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে। আর এই সময়কালে কমিটির মাত্র একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা বাবদ বিপুল টাকা নিয়েছেন বেশ কয়েকজন সদস্য। ভাতার লোভে ব্যক্তিগত সফরকেও কমিটির কাজ হিসাবে দেখানো হয়েছে।
 এবছর বসন্ত পঞ্চমীতে বদ্রীনাথের দ্বার খোলার তিথি নির্ধারণ নিয়ে নরেন্দ্রনগর রাজমহলে বৈঠক হয়েছিল। এই বৈঠকের সঙ্গে মন্দির কমিটির কোনো সম্পর্ক নেই। তাও সেখানে উপস্থিতির ভুয়ো তথ্য পেশ করে টাকা নিয়েছেন সদস্যরা। দ্বারবন্ধ অনুষ্ঠান, মন্দির পরিদর্শনে হেলিকপ্টার ভাড়া সহ নানা কারণ দেখিয়ে টাকা হাতানো হয়েছে। ইচ্ছামতো হিসাব দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন সবাই। দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসতেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ