Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

নেইমারের প্রত্যাবর্তন আলোয় সাজালেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র

নেইমার ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামলেন। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে মিলিয়ে ফুটবল প্রেমীদের আবেগের ঝড়। বিস্তারিত পড়ুন।

নেইমারের প্রত্যাবর্তন আলোয় সাজালেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র
  • ২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মায়ামি: ৭৬ মিনিট। ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচের শেষ কোয়ার্টার। হাজার ডেসিবেলের গর্জন মায়ামির গ্যালারি থেকে হুউউশ করে উড়ে গেল আকাশের দিকে। ওই তো নেইমার। মাঠে নামছেন সাম্বা ফুটবলের পোস্টার বয়। কুনহা আউট, নেইমার ইন। হলুদ-সবুজ জার্সিতে ম্যারাথন ৯৮১ দিনের অবসান। ব্রাজিলের জার্সিতে ফের মাঠে সাম্বা ফুটবলের বরপুত্র। গ্যালারি উত্তাল। মুঠোফোন, টেলিভিশনে দৃষ্টি রাখা কয়েক লক্ষ রাতজাগা চোখের তারা অস্থির। একটা থ্রু পাস কিংবা টুকরো স্কিলের অপেক্ষা। লক্ষ্যভেদ হলে সব পেয়েছির আনন্দ। সদ্য ফিট হওয়া নেইমারের জন্য মাত্র ১৪ মিনিট বরাদ্দ রেখেছিলেন ব্রাজিল কোচ। সংযোজিত সময় ধরলে আরো কয়েক মিনিট বেশি। নেইমার পুরো ফিট নন। ইঞ্জিন গরম হতে একটু সময় তো লাগবেই। তবে ছোট্ট স্পেলেই সেই প্রমাণ করলেন সেই প্রাচীন প্রবাদ কতটা খাঁটি। ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পারমানেন্ট।’ স্কটল্যান্ড বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শট নিয়েছিলেন। বিপক্ষ গোলরক্ষকের হাতে জমা পড়ল বল। অন্তিম মুহূর্তে বাঁ পায়ে সোনার বল বাড়িয়েছিলেন ভিনিসিয়াসকে। ক্লান্ত ভিনি মিসপাস না করলে দিনের সেরা মুভ হতেই পারত। নেইমারই সেই জিয়নকাঠি, যা গোটা দলকে জাগাতে পারে। নক-আউটের আগে নেইমারের প্রত্যাবর্তনই জোগো বোনিতোর সিলভার লাইন। 

Advertisement

দীর্ঘ ১৬ বছরে ধরে জাতীয় দলের হয়ে ১২৯ টা ম্যাচ খেলছেন। ক্যাবিনেটে গোলের সংখ্যা ৭৯। কিন্তু লক্ষ্যভেদ না হলেও এবারেরটা সত্যিই স্পেশাল। হয়তো তাই ম্যাচের পর নেইমারের চোখে জল। প্রত্যাবর্তনের আনন্দাশ্রু। ফুটবলের শিল্পী তিনি। মুক্তোর দানার মতো জল অনুরাগীদেরও কাঁদায়। নেইমার বললেন, ‘উদ্বেগ ছিলই। তবে এখন দারুণ খুশি। এই দলকে নিয়ে আমি গর্বিত।’ নেইমারের পরিবারও আবেগাপ্লুত। প্রথম বান্ধবী ক্যারোলিনের পুত্র দাভি উপস্থিত ছিলেন। তবে মাঠে নামার সময় তাঁকে চিনতে না পেরে আটকে দেয় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত নেইমার ছুটে গিয়ে সমস্যা মেটান। বাবাকে জড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায় যায় দাভিকে। দুই সন্তানকে নিয়ে মাঠে ছিলেন বর্তমান বান্ধবী ব্রুনা। পারিবারিক উৎসবে মেঘ কেটে সোনা রোদের ঝলকানি। 
নেইমার ফিরলেন। কামব্যাকের মঞ্চ আলোয় সাজালেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। গ্রুপে তিনটি ম্যাচেই জাল কাঁপিয়েছেন তিনি। জোয়ারজিনহো, রোমারিও, রোনাল্ডো, রিভাল্ডোর সঙ্গে এবার একই ব্র্যাকেটে ভিনিসিয়াস। পরিসংখ্যানই জানান দিচ্ছে, যেবারই এমনটা ঘটেছে, সেলেকাওরাই কাপ জিতেছে। চলতি টুর্নামেন্টে রবার্তো কার্লোস, কাকাদের সামনে ভিনিসিয়াস যেন নতুন ঝকঝকে টেসলা কার। স্পিড তুললে ছোঁয়ার বাইরে। ডন কার্লোর কোচিংয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে ১৩ ম্যাচে ৭ গোল করে ফেললেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদে কার্লোর অধীনে খেলেছেন ভিনি। ছন্দে থাকলে কী করতে পারেন আনসেলোত্তি তা ভালোই জানেন। লেফট উইং থেকে উইথড্রন স্ট্রাইকার— চরকির মতো ঘুরছেন ভিনিসিয়াস। খুঁতখুঁতে ইতালিয়ান কোচও বলতে বাধ্য হয়েছেন-‘এখন ভিনিসিয়াস জুনিয়র বিশ্বের অন্যতম সেরা।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ