Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুর বনবিভাগে ১২৬টি হাতি থাকায় উদ্বিগ্ন গ্রামবাসীরা

জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে ফের বাড়ছে হাতির আতঙ্ক। বুধবার মেদিনীপুর বনবিভাগ এলাকায় মোট ১২৬টি হাতির অবস্থান করছে বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।

মেদিনীপুর বনবিভাগে ১২৬টি হাতি থাকায় উদ্বিগ্ন গ্রামবাসীরা
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে ফের বাড়ছে হাতির আতঙ্ক। বুধবার মেদিনীপুর বনবিভাগ এলাকায় মোট ১২৬টি হাতির অবস্থান করছে বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। একসঙ্গে একশোর বেশি হাতি বিভিন্ন জঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকায় থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা। হাতির হানায় জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চিন্তায় রয়েছেন চাষিরাও। সরকার বদল হলেও হাতির সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান কেন হচ্ছে না, সে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকার বাসিন্দারা।

Advertisement

বনদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বুধবার চাঁদড়া রেঞ্জের ধবাসলডিহি এলাকায় ৫৭-৫৮টি হাতি রয়েছে। আমগোবরা এলাকায় রয়েছে ২টি, সুন্দরলটায় ৩টি, পুকুরিয়াসলে ৩৪-৩৫টি এবং আউসাবান্দীতে ১৭-১৮টি হাতির রয়েছে। অন্যদিকে পিড়াকাটা রেঞ্জের জয়নারায়ণপুর ও চিহরদালান এলাকায় একটি করে হাতি রয়েছে। সব মিলিয়ে বনবিভাগ এলাকায় হাতির সংখ্যা ১২৬।
কৃষিপ্রধান পশ্চিম মেদিনীপুরে জমিতে ধান, আলু-সহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। এই চাষের উপর নির্ভর করেই জেলার বহু পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয়। ফলে হাতির দল জঙ্গল ছেড়ে জমিতে নেমে পড়লে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা  রয়েছে।  শুধু চাষাবাদ নয়, জঙ্গল থেকে কাঠ, মধু ও বিভিন্ন বনজ সামগ্রী সংগ্রহ করেও বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। হাতির ভয়ে তাঁদের অনেকে জঙ্গলে যেতে পারছেন না।স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, একসময় মাওবাদী আন্দোলনের কারণে জঙ্গলমহল এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাতেন। এখন তা বদলে হাতির আতঙ্কে নাজেহাল হতে হচ্ছে তাঁদের। রাত বাড়লেই বাড়ছে উৎকণ্ঠা।এদিকে হাতি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিয়েও সতর্কবার্তা জারি করেছে বনদপ্তর। ভাদুতলা জঙ্গলে আগুন লাগানো এবং বন্যপ্রাণী শিকার থেকে বিরত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। বনদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের কাজ দণ্ডনীয় অপরাধ। হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বনদপ্তর।
চাঁদড়া এলাকার বাসিন্দা স্বপন জানা, সন্তোষ মণ্ডলরা বলেন, প্রতি বছর হাতির পাল এলেই নজরদারি ও সতর্কবার্তা জারি হয়। কিন্তু, স্থায়ীভাবে হাতির সমস্যা মেটাতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে? ফসলের ক্ষতি এবং মানুষের নিরাপত্তা দুই নিয়েই বাড়ছে উদ্বেগ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ