


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বারবার নিষেধ করার পরও শোনেনি। রাগে যুবকের মুখে নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক ভিলেজ পুলিশের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় মাড়গ্রাম থানার চাঁদপাড়া গ্রামে। গুরুতর জখম ওই যুবক আপাতত রামপুরহাট মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। এদিকে অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশের গ্রেফতারের দাবিতে নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা বন্ধ করে পথ অবরোধে শামিল হন এলাকার পুজো উদ্যোক্তরা। পরে খবর পেয়ে রামপুরহাট সিআই এবং মাড়গ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে ওই ভিলেজ পুলিশকে গ্রেফতার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শুক্রবার অভিযুক্তকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপাড়া গ্রামের ন’টি দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা বের হয়েছিল। সেখানে প্রচুর নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি ছিল সিভিক ভলান্টিয়ার ও ভিলেজ পুলিশ। তাঁরা নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানাচ্ছিল। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করা হয়নি। অভিযোগ, এরপরই রাগে সজল মার্জিত নামে এক ভিলেজ পুলিশ বছর চব্বিশের হেমন্ত বাগদির মুখে চকলেট বোমা ফাটিয়ে দেয়। তাতে হেমন্তের মুখমণ্ডল পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা জখম ওই যুবককে রামপুরহাট মেডিক্যালে নিয়ে আসেন।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা বন্ধ করে পথ অবরোধে শামিল হন পুজো উদ্যোক্তা ও গ্রামবাসীরা। জখম যুবকের স্ত্রী শুক্লা বাগদি বলেন, স্বামীর সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে যাচ্ছিলাম। তখন ওই ভিলেজ পুলিশ স্বামীর মুখে চকলেট বোমা ফাটিয়ে দেয়। জখম যুবকের মামা সৌমেন বাগদি বলেন, সজল ভাগনের মুখ চিপে ধরে চকলেট বোমা ভরে দেয়। ভাগনে বাঁচবে, কি মারা যাবে কেউ জানে না। সজল নিজেকে এসপি ভাবে। ওকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
এরপরই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিশ আধিকারিকদের। পরে বাড়ি থেকে ওই ভিলেজ পুলিশকে আটক করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রাতেই থানায় এসে ভিলেজ পুলিশের নামে লিখিত অভিযোগ করেন শুক্লা বাগদি। এরপরই পুলিশ ওই ভিলেজ পুলিশকে গ্রেফতার করে।
যদিও পুলিশ জানিয়েছে, জখম যুবক নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটাচ্ছিল। বারবার নিষেধ করলেও শোনেনি। এরপরই ওই ভিলেজ পুলিশ বোমাগুলি কাড়তে যায়। তখনই ওই যুবকের হাতে থাকা জ্বলন্ত একটি চকলেট বোমা ফেটে যায়। তাতেই ওই যুবক জখম হয়েছেন। ওই ভিলেজ পুলিশের হাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।