Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিকশিত ভারত গড়তে দেশের সেরা দশ কৃষি বিজ্ঞানীর লিস্টে জয়পুরের চিত্তরঞ্জন

কৃষিবিজ্ঞানে ‘আচার্য’ উপাধি পাওয়ার পর এবার  বিকশিত ভারত গড়তে দেশের সেরা ১০ কৃষি বিজ্ঞানীর তালিকায় জায়গা করে নিলেন বাঁকুড়ার জয়পুরের বিজ্ঞানী চিত্তরঞ্জন কোলে।

বিকশিত ভারত গড়তে দেশের সেরা দশ কৃষি বিজ্ঞানীর লিস্টে জয়পুরের চিত্তরঞ্জন
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: কৃষিবিজ্ঞানে ‘আচার্য’ উপাধি পাওয়ার পর এবার  বিকশিত ভারত গড়তে দেশের সেরা ১০ কৃষি বিজ্ঞানীর তালিকায় জায়গা করে নিলেন বাঁকুড়ার জয়পুরের বিজ্ঞানী চিত্তরঞ্জন কোলে। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য চিত্তরঞ্জনবাবুকে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচার কনফারেন্সে আচার্য উপাধি দেওয়া হয়। সম্প্রতি কৃষি বিজ্ঞানের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কৃষির উন্নতি সাধনের জন্য গোটা দেশে প্রথম সারির যে ১০জন বিজ্ঞানী নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাতে চিত্তরঞ্জনবাবু স্থান পেয়েছেন। বিষয়টি সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিকস্তরের ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। 

Advertisement

চিত্তরঞ্জনবাবু বর্তমানে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষ, প্রাণী এবং কৃষিকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ করছেন। তাঁর মূল্যবান বক্তব্য শোনার জন্য বিভিন্ন দেশের বড়ো বড়ো সংস্থার কর্ণধাররা মুখিয়ে থাকেন। রুখা শুখা বাঁকুড়ার ছেলে কৃষিবিজ্ঞানে আজ দেশ তথা গোটা বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছেন। তাতে জেলার মানুষ ভীষণ খুশি। চিত্তরঞ্জনবাবু বলেন, দেশের প্রথিতযশা সেরা ১০জন কৃষি বিজ্ঞানীদের মধ্যে আমার নাম জুড়ে যাওয়ায় ভীষণ খুশি হয়েছি। আমরা আবহাওয়ার পরিবর্তন আটকাতে পারব না। তার সঙ্গে মানিয়ে চলার জন্য ডিজাইনিক এগ্রিকালচারের উপর আমাদের নির্ভরশীল হতে হবে। ক্লাইমেট চেঞ্জের ফলে কীটপতঙ্গ বাড়বে। তার জন্য ভার্টিক্যাল এগ্রিকালচারের উপর জোর দিতে হবে। অর্থাৎ, আগামী দিনে শহরেও চাষবাস করতে হবে। তারজন্য একাধিক স্তর বিশিষ্ট ছাদ তৈরি হবে। এছাড়াও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিতে নিতে পারবে এমন প্রজাতির কৃষির উদ্ভাবন করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই গোটা বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। 
জয়পুরের রাজগ্রাম থেকে পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে প্রত্যন্ত ভাণ্ডারগড় গ্রামে চিত্তরঞ্জনবাবুর বাড়ি। ১৯৭১ সালে রাজগ্রাম হাইস্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকে এগ্রিকালচারে রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় হয়েছিলেন। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর দু’টিতেই প্রথম হন। সেখানেই পিএইচডি করার পর ভুবনেশ্বরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। তারপর এলাহবাদ ইউনিভার্সিটি। সেখান থেকে অধ্যাপনার জন্য ইউএসএতে চলে যান। ২০১২সালে বিধানচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন এবং উপাচার্য হন।  ২০১৮-তে দিল্লির অ্যাটোনোমিক এনার্জি, আইসিএআর, এনআ‌঩ইপিবিতে যোগ দেন। ২০২৩ সালে কলকাতায় নিয়েটিয়া ইউনিভার্সিটিতে মুখ্য উপদেষ্টা হিসাবে থাকেন। 
চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি বসে থাকেননি। মানবজীবন এবং কৃষিতে ক্লাইমেট চেঞ্জের প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে কর্মশালা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন কৃষি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর ১৬০টিরও বেশি গবেষণামূলক প্রতিবেদন ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তাঁকে ‘দ্য ফাদার অব এগ্রি জেনোমিকসিন ’ এবং  ‘দ্য ফাদার অব এগ্রি ন্যানোটেকনোলজি ইন রমা ওয়ার্ল্ড’ বলা হয়।  বিশ্বের তাবড় তাবড় কৃষি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকস্তরে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। সম্প্রতি কৃষিবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে, এমন প্রয়াত এবং জীবিত বিজ্ঞানীদের মধ্যে সেরা ১০ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাতে বাঙালি হিসাবে একমাত্র চিত্তরঞ্জনবাবুর নাম রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ