খ্যাতির বিড়ম্বনায় ব্যবসা চালানোই দায় মোদিকে ঝালমুড়ি খাওয়ানো বিক্রমের
  • ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: কলেজ মোড়ের ছোট্ট ঝালমুড়ির দোকান। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে সেই দোকানের ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর থেকেই রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন দোকানদার বিক্রম সাউ। পুজোরসময় ঝাড়গ্রামে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন বিক্রম। পর্যটকদের বাড়াবাড়িতে বিক্রমের  মুখে এখন একটাই কথা, ‘তং মত করো, তং মত করো।’ বিহারের গয়ার বাসিন্দা বিক্রম প্রায় ১২ বছর ধরে ঝাড়গ্রামে রয়েছেন। প্রথমে ভাড়ায় দোকান চালাতেন। পরে কলেজ মোড়ে দোকান করেন। রাস্তা সম্প্রসারণের সময় দোকান ভেঙে দেয় প্রশাসন। অন্য ব্যবসায়ীদের মতো তিনিও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন।পেয়েছিলেন আর্থিক সাহায্যও। পরে পূর্তদপ্তরের জায়গায় ফের দোকান করেন। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন বিক্রম। বিধানসভা নির্বাচনের সম  প্রধানমন্ত্রী তাঁর দালানে ঢুকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। যে ঘটনা দেশজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তাঁর দোকানে ঝালমুড়ি কিনলে বিনামূল্যে মুড়ি দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণায় শহরের বহু বাসিন্দা তাঁর দোকানে ভিড় করেছিলেন। তবে পুজোর সময় সেই ভিড়ের চেহারা অন্যরকম। পর্যটকদের কৌতূহলের কেন্দ্রে এখন বিক্রম নিজেই।দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে এসে অনেকেই বিক্রমের ছবি তুলে নিচ্ছেন। কেউ আবার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরেও এসেছে। সূত্রের খবর, বিক্রমের দোকানের কাছে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্রমকে খ্যাতির বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়েছে।বাংলাদেশ ও দুবাই থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ারপর ঝাড়গ্রাম থানায় অভিযোগ করেছিলেন। পুজোর সময় দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা তাঁর দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে আসছেন। মাঝে মধ্যে প্রশ্নও করছেন। ঝাড়গ্রাম জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্যের কথায়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যে দোকানে ঢুকে ঝালমুড়ি খেয়ে গিয়েছেন, সেই দোকান পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠবেই।পর্যটকদের অনেকেই ঝাড়গ্রামে এসে বিক্রমের দোকানের খোঁজ করছেন। আমাদের বলতে হচ্ছে। কলকাতার বেহালার বাসিন্দা, পঞ্চাশোর্ধ্ব পার্থ দে বলেন, ঝাড়গ্রামে এসে প্রথমেই বিক্রমের ঝালমুড়ির দোকানে গিয়েছি। ঝালমুড়িও কিনেছি।সুস্বাদু খেতে। পরিচিতদের বলা হয়ে গিয়েছে।মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বাসিন্দা সৌভিক পাল বলেন, ঝাড়গ্রামে বেড়াতে এসে প্রথমেই বিক্রমের দোকানে ঢুকেছি। এই দোকান তো মশাই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে।পর্যটকদের কাছে দোকান এখন দ্রষ্টব্য হয়ে উঠলেও বিক্রমের কাছে পরিস্থিতিটা ততটা উপভোগ্য নয়।প্রধানমন্ত্রীর একবার ঝালমুড়ি খাওয়া তাঁকে এনে দিয়েছে পরিচিতি। কিন্তু সেই পরিচিতির ভিড়ে নিজের মতো করে ব্যবসা চালানোই এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। বিক্রমের মুখে তাই বারবার ফিরে আসছে সেই একই অনুরোধ, ‘তং মত করো, তং মত করো।’

Advertisement