নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তামিলনাড়ু সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে বৈঠকে জোরদার অস্বস্তিতে পড়লেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ঠিক সেই দুটি বিষয় নিয়েই আপত্তি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, যে দুটি নিয়ে মোদি সরকার কোণঠাসা। বিজয় প্রথম মুখ্যমন্ত্রী যিনি এর আগে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশেন মানা হবে না। লোকসভার আসন যেমন আছে, সেই ৫৪৩ রেখেই আগামী সাধারণ নির্বাচন করতে হবে। আর ওই ৫৪৩ আসনকে ধরেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ দেওয়া হোক। এবার সরাসরি সেই একই কথা অমিত শাহকে জানিয়ে দিলেন বিজয়। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, সর্বভারতীয় চিকিৎসা শিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট থেকে তামিলনাড়ু বেরিয়ে আসতে চায়।
বিজয়ের বক্তব্য, তামিলনাড়ু রাজ্যস্তরে আগের মতো নিজেদের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে। প্রকৃত মেধাবীরা নিট পরীক্ষায় ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। তামিলনাড়ুতে গিয়ে এভাবে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর থেকে এধরনের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ অবস্থান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে যথেষ্ট অস্বস্তিকর। কারণ, তামিলনাড়ু নিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি ছিল সবথেকে আশাবাদী। এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট করে ২৭ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু একটি মাত্র আসনে জয় এসেছে। তাদের জোটসঙ্গী এআইএডিএমকে তৃতীয় স্থানে। সুতরাং তামিলনাড়ুতে এনডিএ জোট ক্ষমতাসীন হবে বলে যে আশা নিয়ে এবার ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি, তা পূরণ হয়নি। শুধু তাই নয়, ডিএমকে, বিজয়, এমনকী জোটসঙ্গী এআইএডিএমকে, সকলেই কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশনের চরম বিরোধিতা করেছে। বিজয়ের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজেপি আশাবাদী হয়েছিল। সম্প্রতি বিজয় স্কুলকলেজ ছাত্রছাত্রীর উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছেন যে, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে সরকারি স্কুল কলেজের কেউ অংশ নিতে পারবে না। যা কংগ্রেসকে বিরূপ করেছে। কংগ্রেসের সমর্থন বিজয়ের সরকারের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু বিজয়ের সরকারকে সমর্থন দিতে এআইএডিএমকের একাংশ রাজি। সুতরাং কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক সমর্থন প্রত্যাহার করলেও সরকারের পতন হবে না। ঠিক এই সুযোগ নিতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু যে দুই কড়া বার্তা বিজয় দিয়েছেন, এরপর কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপির কাছে তাঁর সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা প্রায় নেই।