


চেন্নাই: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন বিজয়। কাঁটা ছিল ‘ফ্লোর টেস্ট’। বুধবার ১৪৪ ভোট পেয়ে আস্থা ভোটের পরীক্ষাতেও পাশ করলেন সুপারস্টার। বিজয়ের সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে আর কোনো সংশয় রইল না। আস্থা ভোটের আগেই এদিন বিধানসভা কক্ষ ত্যাগ করে এম কে স্ট্যালিনের দল ডিএমকের বিধায়করা। বিজয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেন ২২ জন। ভোটদান থেকে বিরত থাকেন পাঁচ বিধায়ক। আশ্চর্যজনকভাবে এআইএডিএমকে-র ২৫ জন ‘বিদ্রোহী’ এমএলএ সমর্থন করেছেন বিজয়কে। আর এ নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তড়িঘড়ি ওই ২৫ জনকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে এআইএডিএমকে।
বিজয়কে সমর্থন জানাতে ৩০ জনেরও বেশি বিধায়ক এআইএডিএমকে ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারে— ইঙ্গিত মিলেছিল কয়েকদিন আগেই। সেই জল্পনাই সত্যি হল। শুরুতে শোনা যায়, পালানিস্বামীর দল ভোটদানে বিরত থাকবে। কিন্তু মুহূর্তেই সেই সমীকরণ বদলে যায়। ২৫ জন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার আড়াআড়ি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল এআইএডিএমকে। মূলত সি ভি সন্মুগম ও এস পি ভেলুমনির নেতৃত্বেই ২৫ বিধায়কের এই পদক্ষেপ। দলের অন্দরে গুঞ্জন, আগামী দিনে পালানিস্বামীকে ছেড়ে এই গোষ্ঠী দলের পৃথক মালিকানাও দাবি করতে পারেন।
নয়া মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে এদিন আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন। তিনি বলেন, ‘রাজ্যের বড়ো অংশের ভোটারই বিজয়ের দলকে ভোট দেয়নি। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৪ কোটি ৯৩ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছেন। এক্ষেত্রে শাসক দলের পক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ১ কোটি ৭২ লক্ষ। আপনারা একটা কথা মাথায় রাখবেন, বাকি ৩ কোটি ২১ লক্ষ মানুষ কিন্তু আপনার দলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোটার আপনাদের প্রত্যাখান করেছেন।’ এআইএডিএমকে বিধায়কদের সমর্থন প্রসঙ্গে স্ট্যালিন-পুত্রের মন্তব্য — ‘আপনারাই বলেছিলেন, ওরা আদর্শগতভাবে শত্রু। ওদের দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। আর আজ তাদের সমর্থনেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।’
এরই মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেই নিজের জ্যোতিষীকে সরকারি পদে বসিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছিলেন বিজয়। শরিক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সমালোচনার মুখে পড়ে নিয়োগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে পিছু হটতে হল। নিজের সরকারি পরামর্শদাতার পদ থেকে জ্যোতিষী রাধন পণ্ডিত ভেট্টরিভেলকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হলেন তিনি। এদিন রাধনের নিয়োগপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার।