Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিডিও ঘনিষ্ঠদের মোবাইলে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিগ্রহের ভিডিও? চলছে ফরেনসিক পরীক্ষা, তদন্তে ইঙ্গিত বিধাননগর পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার

কথায় আছে, কান টানলে মাথা আসবে। গত একসপ্তাহে তিন জোড়া কান ধরে টানা হয়েছে কিন্তু মাথা এখনও আসেনি! তবে, বড়ো মাথা নাকি আসার পথে!

বিডিও ঘনিষ্ঠদের মোবাইলে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিগ্রহের ভিডিও? চলছে ফরেনসিক পরীক্ষা, তদন্তে ইঙ্গিত বিধাননগর পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কথায় আছে, কান টানলে মাথা আসবে। গত একসপ্তাহে তিন জোড়া কান ধরে টানা হয়েছে কিন্তু মাথা এখনও আসেনি! তবে, বড়ো মাথা নাকি আসার পথে! সূত্রের খবর, বিডিও-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সজল সরকার এবং গাড়ি চালক রাজু ঢালির মোবাইল বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সেই মোবাইলের ফরেনসিক পরীক্ষাতেই বেরোবে আসল ‘কেউটে’! কারণ, ওই মোবাইলের ভিতর নাকি বহু গোপন তথ্য রয়েছে। এমনকী, স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের ভিডিও নাকি বিডিও ঘনিষ্ঠদের মোবাইলেই বন্দি রয়েছে? তার কিনারাতেও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।  বিডিও ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার তুফান থাপার মোবাইলও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনটি মোবাইলের কল লিস্ট, টাওয়ার লোকেশন, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, ফোনের ভিতরে থাকা ছবি ও ভিডিয়ো সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

একটি ফোনে নাকি সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে মারধরের ভিডিয়ো রয়েছে! তবে, কমিশনারেটের দাবি, সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই করা হচ্ছে প্রতিটি জিনিসের সত্যাসত্য। অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে।
সল্টলেকের মতো শহর থেকে সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ এবং নিউটাউনে তুলে নিয়ে গিয়ে খুনের অভিযোগ। খোদ জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। সেই মামলায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর কমিশনারেট। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ১৬ দিন কেটে গেলেও মূল অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মন এখনও অধরা। এফআ‌ইআরে বিডিওর নামও রয়েছে। অভিযোগকারী স্পষ্ট উল্লেখ করেছিলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, উক্ত প্রশান্ত বর্মন ও অন্যান্যরা আমার বোনের বরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে খুন করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গিয়েছেন!’ ওই ঘটনার তদন্তে নেমে বিধাননগর দক্ষিণ থানা প্রথমে বিডিওর গাড়ি চালক রাজু ঢালি এবং ঠিকাদার-বন্ধু তুফান থাপাকে গ্রেফতার করে। তদন্তভার গোয়েন্দ শাখা নেওয়ার পর বিডিও-ঘনিষ্ঠ কোচবিহারের তৃণমূল নেতা সজল সরকার গ্রেফতার হন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরায় তিনজনই তাঁদের অপরাধ কার্যত স্বীকার করেছেন। স্বপনবাবুকে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে নিয়ে এসেই মারধর করে খুন করা হয়েছে, তার তথ্যও মিলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাটের মিটার নাকি বিডিও প্রশান্ত বর্মনেরই নামে রয়েছে! তবে, সেই নথিপত্র সত্য কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃত তিনজনের মোবাইলে বহু তথ্য ও সূত্র রয়েছে, যার কিনারা হলে তদন্তের অনেকটাই অগ্রগতি হবে। তাই ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ