Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে বড় ঘোষণা উপাচার্যের, বিশ্বভারতীতে ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ শো, শীঘ্রই খুলবে বাংলাদেশ ভবন

কবিগুরু চেয়েছিলেন, তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়া হবে ছাতিমতলায়। কোনও আড়ম্বর ছাড়াই। সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২শে শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস।

কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে বড় ঘোষণা উপাচার্যের, বিশ্বভারতীতে ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ শো, শীঘ্রই খুলবে বাংলাদেশ ভবন
  • ৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: কবিগুরু চেয়েছিলেন, তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়া হবে ছাতিমতলায়। কোনও আড়ম্বর ছাড়াই। সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২শে শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। এই দিনটিকে শোক নয়, বরং নতুন প্রাণের আবাহনের মধ্যে দিয়েই পালন করে বিশ্বভারতী। শুক্রবার, গুরুদেবের ৮৪তম প্রয়াণ দিবসেও তার অন্যথা হল না। শান্তিনিকেতনের আকাশ-বাতাসজুড়ে রইলেন তিনি এবং তাঁর গান। সকালে উপাসনা গৃহে বিশেষ উপাসনা, দুপুরে বৃক্ষরোপণ ও সন্ধ্যায় স্মরণের ফাঁকে মিলল জোড়া সুখবরও। বিশ্বভারতী এখন ইউনেস্কোর ‘লিভিং হেরিটেজ সাইট’। ইতিমধ্যেই পর্যটকদের জন্য শুরু হয়ে গিয়েছে ‘হেরিটেজ ওয়াক’। এবার আরও একধাপ এগিয়ে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো চালুর ভাবনা শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে। ঠিক যেমনটা হয়ে থাকে দেশ-বিদেশে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে। চলতি বছরের শেষেই এই শো চালু হয়ে যাবে বলে ঘোষণা স্বয়ং বিশ্বভারতী উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষের। শুধু তা-ই নয়, খুব শীঘ্রই খুলে দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ভবন। মিলবে পর্যটকদের প্রবেশের সুযোগ। উপাচার্যের জোড়া ঘোষণায় খুশি রবীন্দ্র অনুরাগী, আশ্রমিক থেকে পর্যটকরা।

Advertisement

এদিন দিনভর যথাযথ মর্যাদায় বাইশে শ্রাবণ, কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস পালন করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সকালে বিশেষ উপাসনায় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য। সঙ্গে ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক ও অধ্যাপিকারা। উপাসনা শেষে ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের গলা মিলিয়ে পদযাত্রা  এসে থামে রবীন্দ্রভবনের উদয়ন গৃহে। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত চেয়ারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন সকলেই। বিকেল চারটেয় শান্তিনিকেতনের আম্রকুঞ্জে উদযাপিত হয় বৃক্ষরোপণ উৎসব। ‘মরু বিজয়ের কেতন উড়াও’ গানের শোভাযাত্রার অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। বৃক্ষরোপণের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার। সঙ্গীত ভবন সংলগ্ন এলাকায় বিশ্বভারতী মিউজিক স্টুডিও উদ্বোধন করেন তিনি। সন্ধ্যায় লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে রবীন্দ্র সঙ্গীতের মাধ্যমে কবিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানান সঙ্গীত ভবনের পড়ুয়ারা।
এবারের বাইশে শ্রাবণ উদযাপন অন্য মাত্রা পেয়েছে উপাচার্যের ঘোষণায়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আজ, স্মরণীয় দিন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবিগুরুকে স্মরণ করেছি। এই পরম্পরা ও ঐতিহ্যকে আমরা রক্ষা করার চেষ্টা করব। বিশ্বভারতী বর্তমানে ইউনেস্কোর লিভিং হেরিটেজ সাইট। তাই বেশ কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে। এবছরের শেষে রবীন্দ্রভবনে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সেখানে কবিগুরু শৈশব থেকে শান্তিনিকেতন গড়ে ওঠা, তাঁর আদর্শ সবকিছু তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশ ভবনও এক মাসের মধ্যে পর্যটকদের জন্য খুলে যাবে।’ আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বভারতী অনেক উঁচুতে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদী। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ