Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মায়ের আশীর্বাদে কপাল ফেরে নিঃসন্তান দম্পতির, অষ্টমীতে নিরামিষ খান বিরাটির সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের দেবী দুর্গা

সপ্তমির ভোগে থাকে কাতলা-ইলিশ। অষ্টমীতে নিরামিষ খান মা। দশমীতে পান্তাভাত ও কচুশাক খেয়ে বিদায় নেন বিরাটির সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের মা।

মায়ের আশীর্বাদে কপাল ফেরে নিঃসন্তান দম্পতির, অষ্টমীতে নিরামিষ খান বিরাটির সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের দেবী দুর্গা
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: সপ্তমির ভোগে থাকে কাতলা-ইলিশ। অষ্টমীতে নিরামিষ খান মা। দশমীতে পান্তাভাত ও কচুশাক খেয়ে বিদায় নেন বিরাটির সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের মা। ৪১৫ বছরের প্রাচীন এই পুজো ঘিরে এলাকায় হাজারও মিথের ছড়াছড়ি। মায়ের কাছে নতজানু হয়ে আকুল হৃদয়ে কোনও কিছু চাইলে তা পূর্ণ করেন জগজ্জননী। মায়ের আশীর্বাদে বহু নিঃসন্তান দম্পতি সন্তান লাভ করেছেন। আজও পুজোর আয়োজন ও তন্ত্রধারণ করেন পরিবারের সদস্যরা। তবে গুরুমন্ত্র পায়নি, এমন পরিবারের কোনও বধূ কিংবা বিধবারা পুজোর রান্নায় অংশ নিতে পারেন না। 

Advertisement

নিমতা কলেজ লাগোয়া এলাকায় সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের প্রাচীন বাড়ি। সেখানে শিবমন্দিরের পাশাপাশি রয়েছে বড় দুর্গা দালান। এই বংশের কোন পূর্বপুরুষ পুজোর সূচনা করেছিলেন, তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। তবে বিরাটিতে পুজোর সূচনা হয়েছিল ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে। এখানে একচালার প্রতিমার সাবেকি সাজ। মায়ের গায়ের রং শিউলি ফুলের বোঁটার রঙে। জন্মাষ্টমীতে হয় কাঠামো পুজো। তারপর শুরু হয় মায়ের প্রতিমা তৈরির কাজ। ষষ্ঠীতে হয় মায়ের বোধন। ভোগে রয়েছে হরেক বৈচিত্র। সপ্তমীতে মা আমিষ খান। খিচুড়ি, সাদা ভাত, সাতরকম 
ভাজা, একাধিক সবজি, কাতলা ও ইলিশ ভাপা। অষ্টমীতে নিরামিষ ভোগ হয়। খিচুড়ি ও অন্নভোগের পাশাপাশি পোলাও, আটরকম ভাজা, ধোকার ডালনা সহ নানা পদ, পায়েস ও চাটনি থাকে। নবমীর দিন আমিষ ভোগে দু’রকম মাছ, ভাত, খিচুড়ি, ন’রকম ভাজা, সবজির নানা পদ থাকে। দশমীতে হয় পান্তা ভোগ। নবমীর রাতে অন্নভোগ রান্না করে তাতে জল দিয়ে রাখা হয়। সঙ্গে থাকে বিভিন্ন রকম ভাজা, কচু শাক ও সবজির পদ। শাক্ত মতের এই পুজোয় আগে ছাগ বলির চল থাকলেও এখন চালকুমড়ো বলি হয়। পুজোর কয়েকদিন মণ্ডপে বসে ভিয়েন। প্রতিদিন পরিবারের কয়েকশো সদস্য ও আত্মীয় পাত পেড়ে খান। পুজোর চার-পাঁচ দিন আগে থেকে মণ্ডপে মায়ের জন্য নারকেল, তিলের নাড়ু তৈরি করেন বাড়ির গৃহবধূরা। তবে মায়ের যাবতীয় রান্না করেন কেবলমাত্র গুরুমন্ত্র পাওয়া বাড়ির সধবা মহিলারাই। পরিবারের প্রবীণ সদস্য তথা আইনজীবী বারীন রায়চৌধুরী বলেন, ‘দেবী দুর্গা আমাদের কূলদেবী। তিনি আমাদের পরিবারকে রক্ষা করছেন। মায়ের করুণা শুধু পরিবারের উপর বর্ষিত হয়, এমন নয়। কয়েক বছর আগে সপ্তমী পুজোর দিন খড়দহের নিঃসন্তান দম্পতি হাজির হন। তাঁরা এসে বলেন, আমরা 
অষ্টমী পুজোর দিন মায়ের কাছে পুজো দেব। মা আমাদের স্বপ্নে এসে বলেছেন। আমরাও তাঁদের সাদরে আমন্ত্রণ জানাই। আমাদের প্রতিষ্ঠা করা পুকুরে ওই ভদ্রমহিলা স্নান করে মন্দিরের সিঁড়ি থেকে দণ্ডি কেটে ঠাকুর দালান পর্যন্ত এসে মায়ের কাছে পুজো দিয়েছিলেন। এরপর প্রসাদ পেয়ে বাড়ি যান। পরের বছর সন্তান নিয়ে এসে তাঁরা মাকে পুজো দিয়ে যান। কলকাতার বিখ্যাত চা কোম্পানির মালিক থেকে কত মানুষ যে মায়ের কাছে পুজো দিয়ে ফল পেয়েছন, ইয়ত্তা নেই। ৪১৫ বছরের প্রাচীন পুজোয় আজও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় কোনও খামতি রাখি না আমরা।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ