সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া ও তারকেশ্বর: ডিভিসির ছাড়া জলে হাওড়া ও হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই আশঙ্কাই সত্যি হল! বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার সারাদিনে হাওড়ার উদয়নারায়পুর ও আমতা ২ নং ব্লক, হুগলির তারকেশ্বর, জাঙ্গিপাড়া, ধনেখালি ব্লকের নানা অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বহু চাষের জমিতে জল উঠে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে দামোদরের বাঁধ উপচে বিভিন্ন এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করে। তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০টি গ্রাম প্লাবিত। এদিন দুপুর পর্যন্ত ডিভিসি ১ লক্ষ ৪৬ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছিল। সেই জলে কুরচি-শিবপুর, ডিহিভুরশুট এবং হরিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সাতটি ত্রাণ শিবির খোলা হযেছে। সেখানে মোট ৬৩৮ জন গ্রামবাসী আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। বিতরণ করা হচ্ছে শুকনো খাদ্যসামগ্রীও।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাত থেকে ঘোলা, আকনা, কুরচি, শিবানীপুর, মনসুকা, টোকাপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীবাঁধ উপচে জল ঢুকতে শুরু করে। উদয়নারায়ণপুর-ডিহিভুরশুট রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়। চাষবাসে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, কতটা ফসল নষ্ট হয়েছে, তার সমীক্ষা করা হবে। রাতে পাঁচলায় জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক কর্তাদের পাশাপাশি আমতার বিধায়ককে উদয়নারায়ণপুরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই মতো শুক্রবার উদয়নারায়ণপুরের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান জেলাশাসক পি দীপাপপ্রিয়া, হাওড়া (গ্রামীণ)-এর পুলিশ সুপার অমিত র্ভামা, রাজ্য পুলিশের প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কংকরপ্রসাদ বারুই, উলুবেড়িয়ার মহকুমাশাসক মানসকুমার মণ্ডল, আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত।
ডিভিসির ছাড়া জলে আমতা ২ নং ব্লকের দ্বীপাঞ্চল ভাটোরা ও ঘোড়াবেড়িয়া চিৎনান গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়। দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতে তিনটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে ১২০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। শুক্রবার ডিভিসি ১ লক্ষ ১৬ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতির আর অবনতি হবে না বলে আশা করছি আমরা।’
দামোদর উপচে হুগলি জেলার ধনেখালি,তারকেশ্বর এবং জাঙ্গিপাড়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ফসলের জমিতে জল উঠেছে। নদীবাঁধে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙা, কেশবচকের নীচু জায়গায় জল উঠে যায়। এদিন বিকালে তারকেশ্বরের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে কেশবচক গ্রামের কাঁড়ারিয়া প্রাইমারি বিদ্যালয়ের ত্রাণ শিবিরে যান জনস্বাস্থ্য কারিগরিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য।