Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬

ককপিটের পিছনে বসায় রক্ষা, স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন ১৯৯৩ সালে বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বসন্ত

আমেদাবাদে বিমান বিপর্যয়ে নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে প্রাণে বেঁচেছেন মাত্র একজন। দুর্ঘটনার পর ধ্বংসাবশেষের ছবি দেখে মহারাষ্ট্রের পরভানির বাসিন্দা বসন্ত চ্যবনের মনে ফিরে এসেছে ৩২ বছর আগের স্মৃতি।

ককপিটের পিছনে বসায় রক্ষা, স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন ১৯৯৩ সালে বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বসন্ত
  • ১৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ছত্রপতি শম্ভাজিনগর: আমেদাবাদে বিমান বিপর্যয়ে নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে প্রাণে বেঁচেছেন মাত্র একজন। দুর্ঘটনার পর ধ্বংসাবশেষের ছবি দেখে মহারাষ্ট্রের পরভানির বাসিন্দা বসন্ত চ্যবনের মনে ফিরে এসেছে ৩২ বছর আগের স্মৃতি। ১৯৯৩ সালের ২৬ এপ্রিল তত্কালীন আওরঙ্গাবাদের চিকালথানা বিমানবন্দরে দুর্ঘটনার শিকার হয় মুম্বইগামী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান। ১১২ জন যাত্রীর মধ্যে প্রাণ হরিয়েছিলেন ৫৫ জন। আমেদবাদের ঘটনায় বিমানের ইমার্জেন্সি গেটের পাশে সিট থাকায় অবিশ্বাস্যভাবে রক্ষা পেয়েছেন বিশ্বাস কুমার রমেশ। আর আওরঙ্গাবাদের ঘটনায় ককপিটের ঠিক পিছনে আসন হওয়ায় বেঁচে গিয়েছিলেন বসন্ত। আমেদাবাদের দুর্ঘটনার পর তাঁর মনে বারবার ফিরে এসেছে ৩২ বছর আগের স্মৃতি।

Advertisement

কীভাবে ঘটেছিল সেই দুর্ঘটনা? সেদিন আওরঙ্গাবাদ থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে টেক-অফ করে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৪৯১। কিন্তু রানওয়ে ছাড়ার মুহূর্তেই বিমানের পিছনের চাকার সঙ্গে একটি ট্রাকের ধাক্কা লাগে। ট্রাকটি রানওয়ের শেষে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। চাকায় ধাক্কা লাগার পরেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হরিয়ে হাইটেনশন বিদ্যুতের তারের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। এরপর বিমানবন্দর লাগোয়া মাঠে আছড়ে পড়ে সেটি। তিন টুকরো হয়ে গিয়ে বিমানে আগুন লেগে যায়। ককপিটের কাছে বসায় ফুয়েল ট্যাঙ্কের বিস্ফোরণের আঁচ বসন্তের দেহে লাগেনি। 
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বসন্ত পরিচিত নাম। পরভানির মেয়রও হয়েছিলেন তিনি। ৩২ বছর আগের স্মৃতি তাঁর মনে এখনও অমলিন। বসন্ত বলেন, ‘কংগ্রেসের বিধায়ক রামপ্রসাদ বরদিকার আর আমি মুম্বইয়ে শারদ পাওয়ারের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলাম। বিমানের টিকিট পাব কি না, নিশ্চিত ছিলাম না। কিন্তু পরভানির এক পরিবার তাঁদের টিকিট বাতিল করায় আমরা বিমানে ওঠার সুযোগ পাই। আমাদের প্রথমে বিমানের পিছনে আসন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমরা ককপিটের পিছনের আসন বেছে নিই। পিছনে যাঁরা বসেছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকে পুড়ে মারা যান।’ আমেদাবাদের ঘটনার সঙ্গে মিল পেয়েছেন বসন্ত। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিমান তখনও ঠিকমতো টেক-অফ করেনি। তার আগেই ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পাইলট কোনওমতে বিমানটিকে কাছের একটি কৃষিজমিতে ল্যান্ড করাতে সক্ষম হন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ