Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাখিতে সরকারি উদ্যোগে গাওয়া হবে বন্দে মাতরম, যাদবপুরে রাস্তা আটকে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ!

যাদবপুরের রাস্তায় রাখি উত্সবের দিন সরকারি উদ্যোগে সহস্রাধিক কণ্ঠে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’। আগামী ২৮ তারিখ অর্থাত্ শুক্রবার রাখি।

রাখিতে সরকারি উদ্যোগে গাওয়া হবে বন্দে মাতরম, যাদবপুরে রাস্তা আটকে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ!
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুরের রাস্তায় রাখি উত্সবের দিন সরকারি উদ্যোগে সহস্রাধিক কণ্ঠে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’। আগামী ২৮ তারিখ অর্থাত্ শুক্রবার রাখি। কিন্তু যাদবপুর এলাকায় রাখির জন্য শুধু দোকান বসেনি, রাস্তাও বন্ধ হয়েছে। এইট-বি বাস স্ট্যান্ড থেকে সুলেখার দিকে বেশ খানিকটা পথে মঞ্চ বাঁধার কাজ চলছে বুধবার থেকেই। যে সে মঞ্চ নয়, আধুনিক, এলাহি আয়োজন। তাই এইট-বি বাস স্ট্যান্ডের সামনের রাস্তাটি বুধবার থেকেই বন্ধ। বাস টার্মিনাসের ভিতরের একটি অংশে পুলিশ গার্ডরেল দিয়ে দিয়েছে। গার্ডরেলের ভিতর দিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। রাস্তা কতদিন বন্ধ থাকবে? এক পুলিশকর্মী এই প্রশ্ন শুনে বললেন, ‘বন্ধ তো নয়, ডাইভার্সান।’ এই ডাইভার্সানে কি খুব অসুবিধা হচ্ছে? এক বাইক চালক হেসে বললেন, ‘এসব প্রশ্নের কেউ উত্তর দেয়?’  

Advertisement

ওই রাস্তা দিয়ে বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি বাস, অটো চলাচল করে। এই ‘ডাইভার্সানে’ নিত্যযাত্রীদের সমস্যা বেড়েছে। সাধারণের প্রশ্ন, ‘এটা আবার কদিন থাকবে?’ কেউ বলছেন, ‘পাড়ার ভিতর দিয়ে যেতে হবে।’ এই মঞ্চ বাঁধাকে ঘিরে দুপুর থেকেই এইট-বি চত্বর পুলিশে ছয়লাপ। আপাতত শুক্রবার পর্যন্ত রাস্তার হাল এমনই থাকবে বলে খবর। এই গান গাওয়ার অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত থাকার কথা। যাদবপুর কাণ্ডের আবহেই সে-কথা তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন। 
ফলে, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা আঁটসাঁট করার জন্য পুলিশ এই কদিন খুবই তত্পর। যদিও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে ভাঙচুরের ঘটনায় এক সপ্তাহ কেটে গেলেও গ্রেপ্তারির সংখ্যা শূন্য। পুলিশ সূত্রের খবর, সিসি ক্যামারের ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে যেমন ‘হোক কলরব’ কিংবা ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় লালবাজারের উপর তদন্তভার পড়েছিল, এবার এখনো তেমনটা হয়নি। প্রশ্ন, ঢিলেমির অভিযোগ কি থাকছে? মঞ্চ বাঁধার মাঝেই এদিন বিকেলে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির কয়েকজন এইট-বি বাসস্ট্যান্ডে খানিকক্ষণ ‘আয় এসএফআই দেখে যা, এবিভিপির ক্ষমতা’ গোছের স্লোগান দিয়েছে। তারপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক ভাঙার জন্য জুটার নেতৃত্ব রাজ্যেশ্বর সিনহা ও পার্থপ্রতিম রায়কে দায়ী করেছে। জনাকয়েক কর্মী যাদবপুর থানায় গিয়ে দুই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে আসেন।
সেইসময় লেনিনমূর্তির সামনে বামপন্থী দলগুলি গণকনভেনশনের জন্য মঞ্চ বাঁধার কাজে ব্যস্ত। গত ১৫ আগস্ট ওই একই জায়গা বামপন্থী দলগুলি একটি সমাবেশ করেছিল। সেখানে এসইউসি ছিল না। এদিন তারা ছিল। জোড়া মিছিল শেষে কনভেনশন শুরু হয়। সেখানে সিপিএম, সিপিআই, লিবারেশন, ফরওয়ার্ড ব্লক, এসইউসি, আরএসপি নেতৃত্ব বক্তব্য রাখেন। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কল্লোল মজুমদার বক্তব্য রাখার জন্য ডিএসও, আইসা ও এসএফআইয়ের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বকেও ডেকে নেন। যাদবপুরকে ঘিরে এমন বামঐক্য নজিরবিহীন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ