Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গতি হারিয়েছে নয়া নিকাশি পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ, টাকা দিতে গড়িমসি দপ্তরের, জনতার কপালে দুর্ভোগই

আমহার্স্ট স্ট্রিট অঞ্চলের হৃষিকেশ পার্কে তৈরি হচ্ছে নতুন নিকাশি পাম্পিং স্টেশন। বছর দেড়েক ধরে চলছে কর্মযজ্ঞ।

গতি হারিয়েছে নয়া নিকাশি পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ, টাকা দিতে গড়িমসি দপ্তরের, জনতার কপালে দুর্ভোগই
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমহার্স্ট স্ট্রিট অঞ্চলের হৃষিকেশ পার্কে তৈরি হচ্ছে নতুন নিকাশি পাম্পিং স্টেশন। বছর দেড়েক ধরে চলছে কর্মযজ্ঞ। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই কাজে ভাটা পড়েছে। শ্লথ হয়েছে কাজের গতি। অভিযোগ, দপ্তর থেকে মিলছে না বরাদ্দ হওয়া টাকা। তাই কাজ চলছে ঢিমেতালে। এই কাজের জন্য ওই অঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তায় নতুন করে ভূগর্ভস্থ নিকাশি পাইপলাইন পাতা হচ্ছে। পুরানো নিকাশিনালা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তার জন্য খোঁড়াখুঁড়ির ফলে এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। অপ্রশস্ত, ভাঙাচোরা রাস্তাতেই চলছে যানবাহন। বৃষ্টি হলেই জল জমছে। দুর্ভোগ বাড়ছে মানুষের।  

Advertisement

ঠনঠনিয়া, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট অঞ্চলে বৃষ্টির সময় হাঁটুসমান জল জমে যাওয়া নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। ঠনঠনিয়া পাম্পিং স্টেশন এই বিপুল পরিমাণ জল নামানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তাই কয়েক বছর আগেই হৃষিকেশ পার্কে নতুন একটি পাম্পিং স্টেশন গড়ার পরিকল্পনা করে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বাধীন বোর্ড। পাম্পিং স্টেশন, পাইপলাইনসহ গোটা প্রকল্প বাস্তবায়নে ৭০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ হয়। আর্থিক অনুমোদন দেয় পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। বছর দেড়েক ধরে সেই কাজই চলছে। কিন্তু পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে খবর। এই কাজের প্রাপ্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা চেয়ে দপ্তরে চিঠি পাঠায় পুরসভা। কিন্তু অভিযোগ, মাস দেড়েক হয়ে গেলেও দপ্তর থেকে সেই টাকা মিলছে না। তাই কাজও গতি হারিয়েছে। তার উপর বর্ষা চলে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। পুরসভার নিকাশি বিভাগ সূত্রে খবর, কেশব সেন স্ট্রিট থেকে ঠনঠনিয়া পর্যন্ত রাস্তার বেচুবাবু স্ট্রিটের কাছে ভূগর্ভস্থ নিকাশি বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে পাইপলাইন বসানোর সময় নালার অন্য অংশের জল এপারে এসে কাজে সমস্যা তৈরি না করে। নালার একাদিক বন্ধ থাকায় বৃষ্টির সময় বাড়তি জল জমছে ওই অঞ্চলে। স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল কর্মকার বলেন, ‘সেই কবে থেকে কাজ হচ্ছে! বড়ো বড়ো পাইপ পেতেছে রাস্তার নীচে। তারপর আর রাস্তা ঠিক হয়নি। তাপ্পি মেরে চলছে। বৃষ্টিতে তা উঠেও যাচ্ছে। কাদাভরতি রাস্তায় হাঁটাই দায়।’ 
কাজের জন্য রাস্তার একাংশ আটকে রাখার কারণেও পরিস্থিতি ঘোরালো হয়েছে। পুরসভার এক কর্তা বলেন, ‘চলতি বছর বর্ষার আগেই এই কাজ শেষ হওয়ার টার্গেট ছিল। কিন্তু প্রথমে ভোটের কারণে কাজকর্মে ভাটা পড়ে। কারণ, শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে কাজ চালু হলেও আগের মতো গতি নেই। পুরসভার তরফে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হলেও টাকা আসেনি।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ