


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বুধবার লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিখিত প্রশ্নে বিপাকে পড়ে গেল রেলমন্ত্রক। বন্দে ভারত স্লিপারের ‘কম’ ভাড়ার প্রসঙ্গে দেশের অন্যান্য ট্রেনের সঙ্গে কোনো তুলনাই টানতে পারলেন না রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। পরিবর্তে রেলমন্ত্রীকে টেনে আনতে হল চীন, জাপান, এমনকি ফ্রান্সের উচ্চ ভাড়ার প্রসঙ্গ। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে রেলমন্ত্রক পরোক্ষে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে যে, এই মুহূর্তে দেশে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ভাড়াই সবথেকে বেশি। একইসঙ্গে এদিন লোকসভায় লিখিতভাবে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে কোনো আরএসি বুকিংয়ের ব্যবস্থা নেই।
প্রসঙ্গত, এদিন লোকসভায় বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের যাত্রী ভাড়ার কাঠামো এবং তা কত মানুষের কাছে সহজলভ্য— সেই বিষয়েই লিখিত প্রশ্ন ছিল অভিষেকের। এ প্রেক্ষিতেই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন এবং ওই রুটের অন্যান্য ট্রেনের মধ্যে একটি তুল্যমূল্য খতিয়ান জানতে চান তৃণমূল সাংসদ। প্রশ্নের উত্তরে দেশের অন্যান্য রুটের পরিবর্তে বিশ্বমানের ছবি লিখিত জবাবে তুলে ধরেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বুধবার লোকসভায় লিখিতভাবে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতীয় রেলের যাত্রী ভাড়া সর্বনিম্ন। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৮০ পয়সা। অথচ চিন, জাপান কিংবা ফ্রান্সে প্রতি কিলোমিটারে রেল ভাড়ার পরিমাণ সাত টাকা থেকে ২০ টাকা। নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তদের কথাও এক্ষেত্রে ভাবা হচ্ছে কি না জানতে চাওয়ায় লিখিত জবাবে বন্দে ভারত স্লিপারের প্রসঙ্গ উল্লেখই করেননি বৈষ্ণব। বরং সামগ্রিকভাবে জানিয়েছেন, সমাজের যেকোনো স্তরের মানুষের কাছেই রেল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ট্রেনের টিকিটে প্রায় ৬০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার ভরতুকি দেওয়া হয়েছে। যা আদতে প্রত্যেক রেল যাত্রীকে ৪৩ শতাংশ ছাড় দেওয়ার শামিল। এর অর্থ, প্রকৃত টিকিট মূল্য ১০০ টাকা হলে যাত্রীকে দিতে হচ্ছে ৫৭ টাকা। বাকি ৪৩ টাকা মিটিয়ে দিচ্ছে রেল।
বুধবার লোকসভায় তৃণমূলের অন্য লিখিত প্রশ্নেও যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে রেলকে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জুন মালিয়া জানতে চান, যেখানে গুজরাতে ২৯ গুণ, দিল্লিতে ২৮ গুণ, ছত্তিসগড়, মধ্যপ্রদেশে ২৪ গুণ, মহারাষ্ট্রে ২০ গুণ, এমনকি তামিলনাড়ুতে ন’গুণ পর্যন্ত বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেখানে বাংলায় মাত্র তিন গুণ বাড়ানো হয়েছে কি না। এক্ষেত্রে অন্যান্য রাজ্যের প্রসঙ্গ সুস্পষ্টভাবে এড়িয়ে গিয়ে শুধুমাত্র বাংলার খতিয়ান লিখিতভাবে দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। এবং আবারও উল্লেখ করেছেন যে, জমি জটের কারণেই রাজ্যে একাধিক রেল এবং মেট্রো প্রকল্প আটকে রয়েছে। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কলকাতা মেট্রোর ইয়েলো লাইনের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রশ্নের লিখিত জবাবেওজমি জটের উল্লেখ করেছেন বৈষ্ণব।