Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৈষ্ণবনগর: কংগ্রেস-বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল

ফল ঘোষণার আগে বৈষ্ণবনগর বিধানসভায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে রাজনৈতিক সমীকরণ। বিজেপি ও কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্বে বিভক্ত ভোটব্যাঙ্ক, পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ও উন্নয়নের প্রভাব, এই দুইয়ের কাঁধে চেপে এবারও তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্ব।

বৈষ্ণবনগর: কংগ্রেস-বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল
  • ৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালিয়াচক: ফল ঘোষণার আগে বৈষ্ণবনগর বিধানসভায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে রাজনৈতিক সমীকরণ। বিজেপি ও কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্বে বিভক্ত ভোটব্যাঙ্ক, পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ও উন্নয়নের প্রভাব, এই দুইয়ের কাঁধে চেপে এবারও তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্ব। ভোটের আগে থেকেই বিরোধী শিবিরে অস্থিরতার চিত্র স্পষ্ট ছিল। বিজেপির পরিবর্তন সভার আগের দিন বাইক মিছিলকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরের কোন্দল সামনে আসে। প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক স্বাধীন কুমার সরকারের সঙ্গে যুব মোর্চার সভাপতি মিঠু সরকার এবং জেলা পরিষদ সদস্যের স্বামী জগাই ঘোষের মধ্যে সমাজমাধ্যমে তর্কাতর্কির ঘটনা দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তখনই দলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর লড়াই সামনে আসে।

Advertisement

অন্যদিকে, প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে কংগ্রেসেও অসন্তোষ চরমে ওঠে। মামণি মণ্ডলকে প্রার্থী করা হলে ব্লক সভাপতি পুত্র তথা মালদহ জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি সারোয়ার জাহান পদত্যাগ করেন। শুধু তাই নয়, তিনি মৌসম বেনজির নুর ও সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীকে ‘মীরজাফর’ বলে আক্রমণ করে দলত্যাগের কথা ঘোষণা করেছিলেন, যা সংগঠনের ভাঙনকে প্রকট করে তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল নেতৃত্ব জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। কালিয়াচক-৩ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মাসিদুর রহমান বলেন, বিরোধীদের ভাঙন এবার মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়েছে। মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তাই তৃণমূলের জয় নিশ্চিত। এছাড়া এর আগে অন্য দলের বিধায়করা বৈষ্ণবনগর এলাকায় কাজ করেনি, তাই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছিল ভোটাররা। এবারও জয়ের ধারা বজায় থাকবে। ভোটারদের মধ্যেও কার্যত একই সুর শোনা যাচ্ছে। বৈষ্ণবনগরের বাসিন্দা অজিত মণ্ডল বলেন, সরকারের প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছি। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, সেটাই চাই। আরেক বাসিন্দা বিপ্লব সরকারের মন্তব্য, বিরোধীরা মজবুত হতে পারছে না, ফলে তাদের উপর আস্থা রাখা কঠিন। যদিও বিরোধী শিবির সাফল্য নিয়ে এখনও আশাবাদী। বিজেপি প্রার্থী রাজু কর্মকার দাবি করেন, ভোটের ফলেই প্রমাণ হবে মানুষ পরিবর্তন চায়। অভ্যন্তরীণ কিছু মতভেদ থাকলেও কর্মীরা মাঠে নেমে একসঙ্গে লড়াই করেছেন।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি আজিজুল হকের কথায়, কিছু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সামগ্রিকভাবে দলকে বিচার করা ঠিক নয়। আমরা সংগঠনকে শক্তিশালী করে ফলাফলে চমক দেব। সব মিলিয়ে বৈষ্ণবনগরে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি একদিকে যেমন তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে, তেমনই বিরোধী শিবিরে ভাঙন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত গণনার ফল কতটা পূর্বাভাসের প্রতিফলন ঘটায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ