দেরাদুন: সারারাতের বাসযাত্রা। পাহাড়ি রাস্তায় চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাস ছুটে চলেছে উত্তরাখণ্ডের পৌরি থেকে কুয়ায়ুনের রামনগরে। মাঝপথে ছন্দপতন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গড়িয়ে গেল বাস। জানলা দিয়ে ছিটকে পড়েন বেশ কিছু যাত্রী। আরোহীদের তীব্র আর্তনাদের মধ্যেই বাস গিয়ে পড়ল গভীর খাদে। উত্তরাখণ্ডে এমনই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩৬ জনের। আহত ২৪ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। জখম যাত্রীদের হৃষিকেশের এইমসে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আলমোড়া জেলায়। চালকের গাফিলতিতে দুর্ঘটনা কি না, উত্তর খুঁজছে প্রশাসন।
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, গাড়োয়াল মোটর ওনার্স ইউনিয়নের একটি বাস কমপক্ষে ৬০ জন যাত্রী নিয়ে পৌরি থেকে কুয়ায়ুনের রামনগরে যাচ্ছিল। মোট ২৫০ কিলোমিটারের যাত্রা। কিন্তু গন্তব্যে পৌছানোর মাত্র ৩৫ কিলোমিটার আগে সব শেষ। আলমোরা জেলার মারচুলার কুপি গ্রামের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বাসের চালক। রাস্তা থেকে বাসটি সোজা ২০০ ফুট গভীর খাদে গিয়ে পড়ে। পাথরে ধাক্কা খেয়ে বাসটি পুরো দুমড়ে-মুচড়ে যায়। যেখানে বাসটি গিয়ে পড়ে তার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে খরস্রোতা নদী। দুর্ঘটনার পরই ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তাঁরাই একের পর এক নিথর দেহ বাস থেকে বের করে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিস ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধারের কাজে নেমে পড়েন। প্রথমে ২০ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তা বেড়ে হয় ৩৬। পুলিস প্রথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, বাসটিতে ৪২টি আসন থাকলেও যাত্রী ছিলেন প্রায় ৬০ জন। অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়াকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। আবার পাহাড়ি রাস্তায় রাতভর বাস চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন বাস চালক। সকালের দিকে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। অনেক আবার বাসের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে দায়ী করেছেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন যাত্রী জানলা দিয়ে নীচে ছিটকে পড়েন। তাঁরা খাদে নেমে যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালের পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী যুবক বলেন, বাসটি যখন খাদে পড়ছিল তারমধ্যে থেকে বাঁচার তীব্র আর্তি শোনা যাচ্ছিল। পরে সেই আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে আসে। উত্তরাখণ্ডে বাস দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। এদিন মৃত বাসযাত্রীদের পরিবারকে চার লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে উত্তরাখণ্ড সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে দুই লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন যাত্রী জানলা দিয়ে নীচে ছিটকে পড়েন। তাঁরা খাদে নেমে যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালের পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী যুবক বলেন, বাসটি যখন খাদে পড়ছিল তারমধ্যে থেকে বাঁচার তীব্র আর্তি শোনা যাচ্ছিল। পরে সেই আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে আসে। উত্তরাখণ্ডে বাস দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। এদিন মৃত বাসযাত্রীদের পরিবারকে চার লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে উত্তরাখণ্ড সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে দুই লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।



