Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজ্যের ১০ জায়গায় উত্তরপ্রদেশ এটিএস, ইডি’র হানা, অভিযুক্ত বিজেপি ও তৃণমূল নেতা পলাতক

উত্তরপ্রদেশ এটিএস ও ইডি পশ্চিমবঙ্গে ১০ জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ। বিস্তারিত পড়ুন।

রাজ্যের ১০ জায়গায় উত্তরপ্রদেশ এটিএস, ইডি’র হানা, অভিযুক্ত  বিজেপি ও তৃণমূল নেতা পলাতক
  • ১৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের এরাজ্যে আশ্রয়দান, তাদের ভুয়ো নথি তৈরি এবং ‘টেরর ফান্ডিং’এর  নেটওয়ার্ক ভাঙতে পশ্চিমবঙ্গ সহ চারটি রাজ্যে বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়াড (এটিএস) ও ইডি একযোগে তল্লাশি চালাল। এই রাজ্যের মুর্শিদাবাদের ডোমকল, উত্তর ২৪ পরগনার হাসানাবাদ ও হাড়োয়ার দুটি খারিজি মাদ্রাসা সহ মোট ১০টি জায়গায় অভিযান চলেছে। হাসনাবাদের অনুমোদনহীন মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার হয়েছে টাকা। অনুপ্রবেশকারীদের এদেশে পাকাপাকিভাবে থাকার ব্যবস্থা ও নথি তৈরির জন্য টাকা ইংল্যান্ডের একটি  কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশ হয়ে পশ্চিমবঙ্গের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে আসত বলে খবর। এই টাকা লেনদেনে যুক্ত থাকার অভিযোগে বনগাঁ এলাকার বিজেপি নেতা বিক্রম রায়ের বাড়িতেও দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালায় যৌথ টিম। এর আগেও বিক্রমকে গ্রেপ্তার করেছিল যোগীরাজ্যের এটিএস। যদিও এদিন তল্লাশির খবর পেয়েই বাড়ি ছেড়ে পালান শাসক দলের ওই যুব নেতা। ডোমকলের পার রঘুনাথপুর গ্রামে আদিল উল রহমান নামে এক যুবকের খোঁজে হানা দেয় যৌথ টিম। 

Advertisement

২০২৩ সালে উত্তরপ্রদেশে এটিএস মায়ানমারের রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মিলিয়ে ৭৪ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছিল। অভিযোগ, বসিরহাট, বনগাঁ, হাসনাবাদ সহ উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত দিয়ে তাদের এদেশে ঢোকানো হয়। এই রাজ্যে তাদের আধার, ভোটার, পাসপোর্ট, প্যান কার্ড সহ যাবতীয় ভারতীয় নথি তৈরি করে দিত চক্রের সদস্যরা। তাদের থাকার ব্যবস্থা হয় হাসানাবাদ, হাড়োয়া এলাকার দুটি খারিজি মাদ্রাসায়। এটিএস তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে, খারিজি মাদ্রাসাগুলিতে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন টাকা পাঠাচ্ছে। একটি  এনজিও’তে টাকা ঢুকছে। এই এনজিওটি আসলে জঙ্গি স্লিপার সেলের এক সদস্যের। মানি ট্রেল খুঁজতে ২০২৪ সালে ইডি তদন্তভার নেয়। সেই মামলাতেই পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা, দিল্লি সহ মোট চারটি রাজ্যে এদিন তল্লাশি চলেছে।
এই রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার হাসানাবাদের রামেশ্বরপুর, হাড়োয়ার দুটি খারিজি মাদ্রাসায় তল্লাশি চলে। অনুমোদনহীন এই মাদ্রাসাগুলি চালাতেন তৃণমূল নেতা আব্দুল গাজি ও তার ঘনিষ্ঠ আব্দুস সামাদ। তাদের কাছে টাকা আসত। ঘটনার পর থেকেই দুজনেই পলাতক। গাজিকে আগেও গ্রেপ্তার করেছিল উত্তর প্রদেশ এটিএস। হাড়োয়ায় তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চলেছে বলে খবর। এই ব্যবসায়ীর একটি ট্রাস্ট রয়েছে। যেখানে ইংল্যান্ড ভিত্তিক একটি কোম্পানি টাকা পাঠিয়েছে বলে খবর। এই টাকা দুবাই থেকে প্রথমে বাংলাদেশে আসে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, ইংল্যান্ডের ওই কোম্পানিটি বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি জঙ্গি সংগঠনের। বনগাঁর বিজেপি নেতা বিক্রম রায়ের কাছেও এই কোম্পানি থেকে টাকা আসার তথ্য মেলায় তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চলেছে। একাধিক এনজিওকে ব্যবহার করা হয়েছে টাকা পাঠানোর জন্য। এই টাকা অনুপ্রবেশকারীদের হাতে পৌঁছে দিয়েছে এনজিওগুলি। এদেশে রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিরা পাকাপাকিভাবে থাকতে পারে এবং গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা করতে পারে, তারজন্য ই-রিকশ কেনা বা ব্যবসা খোলার জন্য এই টাকা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ