Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

উড়তে উড়তে ঘুমায় যে পাখি সোমা চক্রবর্তী

৪৯২। প্রথম সমুদ্রযাত্রায় চলেছেন কলম্বাস। আতলান্তিক মহাসাগর পেরিয়ে কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করার সময় অদ্ভুত সুন্দর কিছু পাখির সম্মুখীন হলেন। এমন পাখি তিনি এর আগে কখনও দেখেননি।

উড়তে উড়তে ঘুমায় যে পাখি
সোমা চক্রবর্তী
  • ২ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
৪৯২। প্রথম সমুদ্রযাত্রায় চলেছেন কলম্বাস। আতলান্তিক মহাসাগর পেরিয়ে কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করার সময় অদ্ভুত সুন্দর কিছু পাখির সম্মুখীন হলেন। এমন পাখি তিনি এর আগে কখনও দেখেননি। চিলের থেকে উঁচুতে উড়ছে পাখিগুলো আর শিকার দেখলেই জলের কাছাকাছি এসে  অতি দ্রুততার সঙ্গে জল থেকে ছোঁ মেরে শিকার ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর জার্নালেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন এই পাখির কথা।
Advertisement
গ্রীষ্মমণ্ডলীয়, উপক্রান্তীয় অঞ্চল ও গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ। সমগ্র অঞ্চল জুড়েই অবাধে বিচরণ করছে অত্যন্ত দীর্ঘ পাতলা ডানাযুক্ত মুরগির আকারের পাখিগুলো। সারা দেহ কালো রঙের পালকে আবৃত। লম্বা কাঁটাযুক্ত লেজ আর গলার কাছে লাল রঙের চামড়ার থলি পুরুষ পাখিটিকে বেশ আকর্ষণীয় চেহারা প্রদান করেছে। স্ত্রী পাখির পেটের নীচের দিকে সাদা রঙের দাগ দেখা যায়।
সামুদ্রিক এই পাখিগুলি ওড়ার দক্ষতায় অভিনব। অন্যান্য পাখিদের তুলনায় সীমাহীন আকাশের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছয় এরাই। বাতাসের স্রোতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ একটানা উড়তে সক্ষম। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টানা দু’দিন উড়তে উড়তে এরা বেশ কিছুটা সময় ঘুমিয়েও নেয়। প্রাণীজগতের দাঁড়িয়ে ঘুমোয় ঘোড়া। অথচ উড়তে উড়তে ঘুমোতে পারে এমন প্রাণীর নাম কি তোমরা এর আগে কখনও শুনেছ? বিস্ময়কর এই পাখির নাম ‘ফ্রিগেট পাখি’।
খাদ্যের জন্য এরা মাছ, স্কুইড, টুনা শিকার করে। কখনও কখনও রাতে গাছের ওপরে কিংবা পাহাড়ে বাসা বাঁধে। ফ্রিগেট পাখিরা ক্লেপ্টোপ্যারাসাইট। উদরপূর্তির জন্য  এরা অন্যান্য সামুদ্রিক পাখিদের খাবার চুরি করে, ছানাদেরও ছিনিয়ে নেয়। নিচু গাছ বা মাটিতে তৈরি রুক্ষ বাসা তাদের ডিমের বড় নিরাপদ আশ্রয়।
ক্যারিবীয় অঞ্চলের ইংরেজ নাবিকরা, ফ্রিগেট পাখিদের নাম দিয়েছিল— ‘ম্যান অব দ্য ওয়ার বার্ড’। ইংরেজ অভিযাত্রী উইলিয়াম ড্যাম্পিয়ারের ‘An account of a new voice arround the world’ বইতেও ফ্রিগেট পাখি সম্পর্কে এই নামটির ব্যবহার রয়েছে।
ফ্রিগেটদের পাঁচটি প্রজাতি আছে। ম্যাগনিফিসেন্ট ফ্রিগেট, অ্যাসেনশন ফ্রিগেট, ক্রিসমাস ফ্রিগেট, গ্রেট ফ্রিগেট ও লেসার ফ্রিগেট। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা দিয়েছে, খাবার সংগ্রহের সময় এরা একটানা ১২ দিন নিজেদের ডানার উপর ভর করে থাকতে পারে।  বাসায় থাকাকালীন গরম বা রোদ থেকে বাঁচার জন্য এরা নিজেদের ডানাটাকে তাদের মাথায় ছাতার মতো ব্যবহার করে। দীর্ঘজীবী ফ্রিগেটরা উড়তে দক্ষ হলেও সাঁতার কাটতে অক্ষম। অন্যান্য সামুদ্রিক পাখিদের তুলনায় এরা অনেকটাই আলাদা। এদের রক্তে বাহিত হয় এক বিশেষ ধরনের পরজীবী-হেমোপ্রোটিয়াস গ্রুপের প্রোটোজোয়া। কিরিবাস ও বারমুডার জাতীয় পতাকায় আছে এই পাখির নকশা। অ্যান্টিগুয়া বারমুডার জাতীয় পাখিও ফ্রিগেট। প্রশান্ত মহাসাগরের পলিনেসিয়া ও মাইক্রোনোশিয়াতে বাড়িতে ফ্রিগেট পোষার কাহিনি প্রচলিত আছে। শুধু তাই নয়, আমেরিকা ও ইউরোপের সামুদ্রিক লোককাহিনি অনুসারে, এই পাখি অত্যন্ত শুভ লক্ষণের প্রতীক।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ