বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: পিএফের আওতায় থাকা পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসের শেষে ঢুকে যায় পেনশনের টাকা। এবার কালীপুজো ও দীপাবলির ছুটি ছিল ৩১ অক্টোবর। তাই ২৯ অক্টোবর পেনশন দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও। সেই মতো প্রস্তুত থাকতে বলা হয় সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলিকে। উৎসবের মরশুমে, বিশেষত কালীপুজো ও ভাইফোঁটার আগে পেনশন হাতে পেয়ে বেশ খুশি ছিলেন প্রবীণ নাগরিকরা। কিন্তু তাঁদের মধ্যে অনেকে আশ্চর্য হয়ে দেখলেন, দু’দিনের মধ্যে অ্যাকাউন্ট থেকে অক্টোবরের পেনশন বাবদ ঢোকা টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে! ২৯ তারিখে যতজনের পেনশন ঢুকেছে, তাঁদের একাংশ এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী। স্বভাবতই এমন ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়। প্রবীণ পেনশনভোগীরা জানতে পারেন, এক-আধজন নয়, অনেকেই এই সমস্যায় পড়েছেন। চলতি মাসের শুরুতেই টাকা ফিরিয়ে নিয়েছে ব্যাঙ্ক। কারও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ফেরত গিয়েছে ১ নভেম্বর, কারও আবার ২ নভেম্বর। বুধবার পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই টাকা ফেরত পাননি। বছরের পর বছর যাঁরা পেনশন পেয়ে আসছেন, তাঁদের এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনও হয়নি। প্রাথমিকভাবে কেউ কেউ ভেবেছিলেন, লাইফ সার্টিফিকেট জমা না দেওয়ার কারণেই হয়তো পেনশন দিয়েও তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন স্তরে খোঁজখবর করে তাঁরা জানতে পারেন, এই ঘটনার সঙ্গে ওই শংসাপত্রের কোনও সম্পর্ক নেই।
Advertisement
তাহলে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটল কীভাবে? পিএফ কর্তৃপক্ষের দাবি, এক্ষেত্রে তাদের কোনও গাফিলতি নেই। কত জনকে কত টাকা পেনশন দেওয়া হবে, সেই সংক্রান্ত একটি পেনশন শিট তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলিকে পাঠিয়ে দেয়। এবারও সেই একই নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে ব্যাঙ্কগুলিকে তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গোল বেধেছে অন্য জায়গায়। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অক্টোবরের বদলে সেপ্টেম্বরের পেনশন শিটের ভিত্তিতে ২৯ অক্টোবর টাকা পাঠিয়ে দেওয়াতেই যাবতীয় বিপত্তি। বিষয়টি নজরে আসতেই তারা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত বহু পেনশনভোগীর অ্যাকাউন্টে তাদের ন্যায্য পেনশন ফেরত আসেনি বলেই জানা গিয়েছে। তবে কেউ কেউ এমন দাবিও করেছেন যে, এদিন সন্ধ্যায় তাঁদের পেনশন ফেরত এসেছে। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনকে আশ্বস্ত করে বলেছে, শীঘ্রই তারা ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় টাকা পাঠাবে। এই অবস্থায় ভুক্তভোগী প্রবীণরা বলছেন, ‘এমনিতেই আমরা যে অঙ্কের পেনশন পাই, তাতে এই চড়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কিছুই হয় না বললে চলে। সেটুকুও দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি এমন গাফিলতি হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার এবং দুর্ভাগ্যজনক।’



