


ওয়াশিংটন ও তেহরান, ২১ মার্চ: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। লাফিয়ে বাড়ছে অশোধিত তেলের দাম। এই পরিস্থিতিতে ইরানের উপরে নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করল আমেরিকা। ইতিমধ্যে জাহাজে তোলা হয়েছে এমন ইরানি তেল বিক্রির উপরে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। এই খবরে গোটা বিশ্ব প্রথমে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হল না। কারণ এখন বেঁকে বসেছে তেহরান।
ট্রাম্প সরকারের ঘোষণার পরে বিভিন্ন দেশ আবার ইরানি তেল কেনার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল। ব্যতিক্রম নয় ভারতীয় সংস্থাগুলিও। এমন সময়ে ইরান দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করার মতো কোনও তেল এই মুহূর্তে জাহাজে তোলা নেই। যদিও জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে জাহাজে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন বা ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার এক নির্দেশিকা জারি করে মার্কিন অর্থ দপ্তর। যেখানে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে জাহাজে তোলা হয়েছে এমন ইরানি তেলের উপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এই অনুমতির ফলে ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবে ইরান।
এশিয়ার দেশগুলি তাদের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের শোধনাগারগুলি উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। এখন ইরানের সরকার কী অবস্থান নেয়, সেটাই দেখায়।