ওয়াশিংটন, ৬ মার্চ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় ভারতকে সাময়িক স্বস্তি দিল যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতকে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে সরবরাহ সংকটে পড়া ভারতীয় রিফাইনারিগুলি অস্থায়ীভাবে হলেও কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। কিন্তু এর নেপথ্যে রয়েছে এক শর্ত। সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলের ট্যাঙ্কার বা জাহাজের ক্ষেত্রেই এই ছাড় কার্যকর হবে। অর্থাৎ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রে আটকে থাকা তেল ভারত কিনতে পারবে। বৃহস্পতিবার এ কথা জানান আমেরিকার অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট।
বেসেন্ট আরও বলেন, 'ভারত আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। ইরানের জন্য বিশ্বের জ্বালানি বাজার ধুকছে। তাই এই চাপ কমানোর জন্যই সাময়িক উদ্যোগ নিয়েছে আমেরিকা'। আমেরিকার ইজরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকেই তার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেল রপ্তানির উপর। ইরান যুদ্ধকালীন সময়ে, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট রপ্তানিযোগ্য তেলের প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় প্রণালীর দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন দেশের বহু জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কার। সেখানে ভারতের ৩৭টি জাহাজও আটকে রয়েছে। ফলে ভারতের ক্ষেত্রেও এর বড় প্রভাব পড়েছে। দেশের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশই আসে এই হরমুজ প্রণালী হয়ে। ফলে তেল আমদানির ক্ষেত্রে বিকল্প রুট ও উৎস খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে ভারত। তারই মাঝে আমেরিকার সাময়িক ছাড়পত্রে ভারতের কিছুটা হলেও স্বস্তি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকার মনে করে রাশিয়া তেল বিক্রি করে যে অর্থ আয় করছে, তা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যয় করে। এই কারণেই রুশ ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কো থেকে ভারতের তেল আমদানির উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল হোয়াইট হাউস। এমনকি এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ভারতকে রুশ তেল কেনার থেকে দূরে থাকার আদেশ দেন তিনি। ট্রাম্পের এই চোখ রাঙানিতে সায় দিয়ে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। সেই যুক্তিতেই ভারতের ওপর আরোপ করা অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও তিনি তুলে নেন ট্রাম্প। যদিও এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।