নিউ ইয়র্ক: বালুচিস্তানের বিদ্রোহী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) ও তাদের আত্মঘাতী বিভাগ ‘মজিদ ব্রিগেড’-র উপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য রাষ্ট্রসংঘে যৌথভাবে প্রস্তাব এনেছিল পাকিস্তান ও চীন। কিন্তু সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করল আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স।
অথচ মাসখানেক আগেই বিএলএ এবং মজিদ ব্রিগেডকে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন’-এর তকমা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। যদিও এদিন তিনটি দেশ রাষ্ট্রসংঘে জানিয়েছে, বিএলএ এবং মজিদ ব্রিগেডের সঙ্গে আল কায়েদা বা আইএস জঙ্গিদের যোগাযোগ রয়েছে, এমন কোনও পোক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই প্রমাণ না পাওয়া গেলে বালোচ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা কর্মসূচি শুরু করা যাবে না। বিএলএ-র বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘ নিষেধাজ্ঞা জারি করলে, সংগঠনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, বিদেশে যাতায়াতে রাশ টানার মতো পদক্ষেপ করা যেত। একইসঙ্গে অস্ত্র কেনাবেচা ও সরবরাহের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা যেত। সাম্প্রতিক সময়ে বালোচ বিদ্রোহীদের আক্রমণে জেরবার পাক সরকার। ট্রেন হাইজ্যাক, শহর দখল, পাক সেনার কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা-একের পর এক কাণ্ড ঘটিয়েছে বিএলএ এবং মজিদ ব্রিগেড। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের অধীনে বালুচিস্তানে একাধিক প্রকল্পের কাজ চলছে। সেখানে কর্মরত চীনা নাগরিকরাও বারবার বিদ্রোহীদের টার্গেট হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিএলএ-র বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হলে বিদ্রোহ দমনে সুবিধা পেত ইসলামাবাদ। কিন্তু তাতে কার্যত জল ঢেলে দিল আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিকার আহমেদ বুধবার তাঁর সওয়ালে দাবি করেছিলেন, আইএস, আল-কায়েদা, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এবং বিএলএ আফগানিস্তানের জমি ব্যবহার করে পাকিস্তানে বারবার হামলা চালাচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য আফগান সরকারের কাছেও আবেদন জানান আসিম। সেই সময়ই তিনি জানান, বিএলএ এবং মজিদ ব্রিগেডের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য রাষ্ট্রসংঘের নির্দিষ্ট কমিটির কাছে ইসলামাবাদ ও বেজিং একযোগে অনুরোধ করেছে।