সংবাদদাতা, বোলপুর: পুরুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঁচ বছর ধরে ঢুকেছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে ইলামবাজার থানার রঘুনাথপুরে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইলামবাজার থানার রঘুনাথপুরের বৃদ্ধ শেখ ভোলানের অ্যাকাউন্টে এই টাকা ঢুকেছে। তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা নন। তিনি বার্ধক্য ভাতা পান। তাহলে তাঁর অ্যাকাউন্টে কীভাবে ওই টাকা জমা পড়ল? তা নিয়েই তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। সেই সময় দুর্নীতি করে কেউ এই টাকা পাইয়ে দিয়েছে নাকি ভুলবশত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তাদের তথ্য অনলাইনে যাচাইয়ের সময় বিষয়টি নজরে আসে। দেখা যায়, এক-দু’মাস নয়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমা পড়েছে। এরপরই নড়েচড়ে বসে ইলামবাজার ব্লক প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর অ্যাকাউন্ট যে ব্যাঙ্কে রয়েছে, সেই ব্যাংক ম্যানেজারকেও চিঠি দেওয়া হয়। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এরপর ওই টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও শেখ ভোলান বলেন, আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্প্রতি কিছু সমস্যা হয়েছিল। সেই বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না। ইলামবাজারের ঘটনাটি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বিডিও ঋদ্ধিবান চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
একই ব্লকে পরপর এমন অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। গত মাসেই ইলামবাজারে এক তৃণমূল কর্মীর অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। প্রশাসন সেই টাকাও উদ্ধার করে। এবার ফের এক পুরুষের অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢোকার অভিযোগ সামনে এল।
বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, বিগত সরকারের আমলে নানাভাবে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা চাই, সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হোক।