মাঝরাতে দক্ষিণেশ্বরে জল ছিটিয়ে ভিক্ষুক হটানোর অভিযোগ, বিতর্ক
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াকের নীচে দিনের বেলায় ভিক্ষা করতেন সহায়সম্বলহীন কয়েকজন। সারাদিন ভিক্ষার পর স্কাইওয়াকের নীচের ফাঁকা অংশে শুয়ে রাত কাটাতেন। কালীপুজো উপলক্ষ্যে মন্দির ও স্কাইওয়াক চত্বর পরিষ্কার করার প্রয়োজন। তাই বুধবার মধ্যরাতে পুরসভার জলের ট্যাঙ্কার থেকে হোস পাইপ লাগিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া হলো ঘুমন্ত ভিক্ষুকদের বিছানাপত্র। ভেজা জামাকাপড় ও বিছানাপত্র চোখের জলে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হলেন অসহায় মানুষগুলো। সমাজমাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণেশ্বর আইল্যান্ডের সামনে স্কাইওয়াকের ১২ নম্বর গেটের নীচে সহায় সম্বলহীন কয়েক জন বয়স্ক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বসে ভিক্ষে করেন। ওই জায়গা দিয়ে খুব বেশি মানুষ যাতায়াত করে না। রাতে লোকজন না থাকলে, ওই জায়গায় তাঁরা শুয়ে পড়তেন। পুজো উপলক্ষ্যে মন্দির চত্বর, স্কাইওয়াক ও তার নীচের ফুটপাত পরিষ্কারের কাজ প্রত্যেক বছর করা হয়। এবার বুধবার রাতে  ফুটপাত সাফাইয়ের কাজ শুরু হয়। কামারহাটি পুরসভার জলের ট্যাঙ্কারে হোস পাইপ লাগিয়ে ফুটপাত ধোয়ানো হচ্ছিল। স্কাইওয়াকের নীচে ফুটপাতে তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সহায়সম্বলহীন মানুষগুলো। হোস-পাইপ দিয়ে জল ছিটিয়ে তাঁদের বিছানাপত্র ভিজিয়ে দেওয়া হয়।
আচমকা গায়ে জল পড়ায় অনেকেই ধড়মড়িয়ে উঠে বসেন। ততক্ষণে সমস্ত সামগ্রী ভিজে গিয়েছে। চোখের জল মুছতে মুছতে তারা সেখান থেকে দক্ষিণেশ্বর বাসস্ট্যান্ডের দিকে চলে যান। জলের ট্যাঙ্কারে কামারহাটি পুরসভা লেখা ছিল। যদিও পুরসভার প্রশাসক তথা এগজিকিউটিভ অফিসার নবকুমার দাস বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে পুরসভার কোনও যোগ নেই। আমি আজ দুপুরে বিষয়টি শুনেছি। পুলিশের তরফেও জানানো হয়েছে, তারা এমন বিষয়ের কথা জানে না। তবে, নিত্যযাত্রীদের মতো অনেকেই এই অমানবিক ঘটনায় সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন। গভীর রাতে ফুটপাতে  ঘুমিয়ে থাকা বয়স্ক থেকে শিশুদের সরাতে এভাবে জল দিয়ে ভেজানোর খুব কি প্রয়োজন ছিল? সামান্য মানবিকতা আশা করতে পারেন না ফুটপাতবাসীরা? স্কাইওয়াকের নীচে দিনভর টোটা, অটো অন্যান্য গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট লেগেই থাকে। প্রশ্ন উঠেছে, এই বিষয়ে কারও কেন হেলদোল থাকে না? দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অছি ও সম্পাদক কুশল চৌধুরি বলেন, স্কাইওয়াকের নীচে হাই-ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক সংযোগের প্যানেল রয়েছে। তাই ওই চত্বরে কারও থাকা নিষিদ্ধ। অন্যান্য উৎসব ও কালী পুজোর আগে মন্দির সংলগ্ন চত্বর, রাস্তা সাফ করা হয়। এবারও সেই কাজ শুরু হয়েছে। তখন কোনোভাবে কারও গায়ে জল লেগে থাকতে পারে। নিজের উপলব্ধি ব্যক্ত করেছেন কুশলবাবু—কর্মীদের আরও সতর্ক ভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।