নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্র জানিয়েছিল, ২ হাজার টাকার নীচে ইউপিআই লেনদেনে মাশুল দিতে হবে না। সঙ্গে সঙ্গে উঠে এসেছিল একটি মোক্ষম প্রশ্ন—তাহলে কি ২ হাজারের বেশি লেনদেনে মাশুল গুনতে হবে আম জনতাকে? তার উত্তর অবশেষে মিলল মঙ্গলবার। সরকার জানিয়ে দিল, গ্রাহকদের এর জন্য কোনো খরচ দিতে হবে না। কিন্তু ২ হাজার টাকার উপর ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ মাশুল দিতে হবে ব্যবসায়ীকে। ১৫ অক্টোবর এই নতুন মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর কার্যকর হচ্ছে। এবং স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ব্যবসায়ী নিজের পকেট থেকে কি এই মাশুল দেবেন? নাকি ২ হাজার টাকার উপর ইউপিআই পেমেন্ট করলে ক্রেতার উপরই চাপানো হবে বাড়তি টাকার অঙ্ক?
সরকার আগেই সংশোধন করেছে ২০০৭ সালের পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস আইনের ১০ নং ধারা। সেই অনুযায়ী, ইউপিআই অর্থাৎ ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যমে টাকার লেনদেনে সাধারণ মানুষের কোনো মাশুল লাগে না। কোনো ব্যাংক অথবা আর্থিক সংস্থা গ্রাহকের উপর মাশুল বলবৎ করতে পারে না। সংসদে অর্থমন্ত্রী সেকথা ঘোষণাই করেছেন। কিন্তু সোমবার ফের বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত মাশুল আরোপ করা যাবে না। তারপরই বিতর্কের সূচনা। মঙ্গলবার কংগ্রেস দিনভর সরকারের উদ্দেশে প্রশ্নবাণ ছুড়ে গিয়েছে। বলেছে, বিভ্রান্তি কাটাতে কেন্দ্র বিবৃতি দিয়ে বলুক—কোনো অতিরিক্ত মাশুল ধার্য হবে না। রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘সরকার নিঃশব্দে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক বোঝা চাপাচ্ছে। বোঝানোর চেষ্টা করছে, ক্রেতার উপর চাপ বাড়বে না। কিন্তু ব্যবসায়ীদের যে অতিরিক্ত মাশুল দিতে হবে, সেটা তারা নিশ্চিতভাবে ক্রেতার উপর চাপাবেন। কারণ, তাঁদেরও উপায় নেই।’ কংগ্রেসের দাবি, এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার চাপে। এতদিন যে জিরো এমডিআর নীতি ছিল ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে, তার বিরোধিতা করেছে আমেরিকা। বারবার চাপ দিয়েছে, যাতে মাশুল চাপানো হয়। তাই এই সিদ্ধান্ত।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবরের পর থেকে ২ হাজার ১ টাকার লেনদেনে মাশুল চাপবে আট টাকা। ৩ হাজার টাকায় ১২ টাকা। ৫০ হাজার টাকা ইউপিআই পেমেন্ট করলে দিতে হবে বাড়তি ২০০ টাকা। তবে রেল, টেলিকম, বিমা ক্ষেত্র এবং পেট্রল-ডিজেল কেনায় ২ হাজার টাকার উপর পেমেন্ট হলে ফ্ল্যাট রেট পাঁচ টাকা ধার্য হচ্ছে। একই মাশুল থাকছে বিদ্যুৎ, জল, পাইপবাহিত গ্যাসের ক্ষেত্রেও। তবে দু’জন ব্যক্তির মধ্যে লেনদেনে এই মাশুল চাপবে না। অর্থাৎ, দু’জনেরই সেভিংস অ্যাকাউন্ট হতে হবে। সরকারের বক্তব্য, ৯৫ শতাংশ ইউপিআই পেমেন্টই ২ হাজারের নীচে হয়। কাজেই সমস্যা হবে না। বিরোধীরা কিন্তু বলছে, ঠিক ১০ বছর আগে নোট বাতিল করে নরেন্দ্র মোদি ভারতকে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। আর এখন সেই ডিজিটাল পেমেন্টের উপর মাশুল আদায় করে রাজকোষ ভরানোর নতুন নীতি নিয়েছে মোদি সরকার।