Bartaman Logo
২৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানে হোটেলে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, প্রেমিকা সহ অভিযুক্ত ছ’ জন

বর্ধমানে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিকা সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের। তদন্ত শুরু করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ। বিস্তারিত পড়ুন।

বর্ধমানে হোটেলে যুবকের অস্বাভাবিক  মৃত্যু, প্রেমিকা সহ অভিযুক্ত ছ’ জন
  • ২৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বর্ধমানের হোটেল থেকে যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক গৃহবধূর নামে কাটোয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করল মৃতের পরিবার৷ পরকীয়া সম্পর্কের জটিলতায় কাটোয়ার কারুলিয়ার ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের৷ বেশ কয়েকটি মোবাইল থেকে মৃতের পরিবারকে  হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ তদন্ত চাইছেন মৃতের পরিবার৷ 

Advertisement

প্রসঙ্গত, ১৮ জুন বর্ধমান শহরের গুডশেড রোডে একটি হোটেলের ঘর থেকে বিশাল রায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷ কাটোয়া থানার কারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বিশাল৷ কাটোয়ার কারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ রায় ও রাইমনি গুপ্ত রায়ের পুত্র ছিলেন বিশাল। কাটোয়া কলেজ থেকে বিএ পাশ করে তিনি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী প্রকৌশল যোজনায় বর্ধমান শহরে একটি সংস্থায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। 
মৃতের মা রাইমনি গুপ্ত কাটোয়া থানায় গত ২২ জুন লিখিত অভিযোগে জানান, কাটোয়া কলেজে পড়ার সময় কারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এক তরুণীর সঙ্গে বিশালের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। তরুণী বিবাহিতা। পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে দু’জনের মধ্যে৷ ওই তরুণীর শ্বশুরবাড়ি মন্তেশ্বর থানা এলাকায়। রাইমনি গুপ্ত রায়ের অভিযোগ, বিবাহিত ওই তরুণীর সঙ্গে বিশালের সম্পর্কের কথা তিনি প্রথমে জানতেন না। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ তিনি তা জানতে পারেন। রাইমনিদেবী যখন বুঝতে পারেন ওই সম্পর্ক থেকে ছেলের বেরিয়ে আসার উপার নেই, তখন তিনি তরুণীর সঙ্গে ছেলের বিয়ে দিতেও রাজি হয়ে যান। রাইমনিদেবী আরও জানিয়েছেন, তরুণীর বাপের বাড়িতে কথাবার্তাও বলেন। দু’ জনের বিয়ের প্রস্তাবে মেয়েটির বাবা-মা দু’ জনেই প্রথমদিকে রাজি ও ছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে মেয়েটি ও তাঁর বাবা আমার ছেলেকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। এমনকি বাড়িতে এসে ছেলেকে খুন করিয়ে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়ে যায়।
এরপর গত ১৭ জুন বাড়ি থেকে বর্ধমানে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার নাম করে বেড়িয়ে আসেন বিশাল। ওদিন বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে বিশাল তাঁর মাকে জানান, অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে সে আত্মঘাতী হতে চলেছে। এরপর রাইমনিদেবী বিভিন্ন জায়গায় ছেলের খোঁজ নিতে থাকেন। কিন্তু যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে ১৮ জুন বর্ধমান শহরে বিশালের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরেই ছেলে বিশালের প্রেমিকা, তাঁর স্বামী এবং বাবা সহ মোট ছ’ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন৷ কাটোয়া থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে৷ 
 কাটোয়ার কারুলিয়া গ্রামের মৃত যুবক বিশাল রায়৷ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ