সংবাদদাতা, লালবাগ: এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার জন্য রয়েছে রেলওয়ে ফুটব্রিজ। তবে নেই মাথার উপর ছাউনি। ফলে আচ্ছাদনহীন ফুটব্রিজ দিয়ে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হয় রেল যাত্রীদের। বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাদের। সমস্যা সমাধানে অনেকেই শর্টকাট রাস্তা বেছে নেন। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনের উপর দিয়ে পারাপার করেন। এইভাবেই পারাপার করতে গিয়ে বছর আড়াই আগে বছর বাইশের এক তরতাজা যুবক ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এবং প্রাণনাশের ঝুঁকি থেকে রেহাই পেতে ফুটব্রিজের ছাউনির দাবিতে সরব হয়েছেন জিয়াগঞ্জবাসী থেকে রেলযাত্রীরা। পূর্বরেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি বলেন, রেলের আধুনিকরণ ও যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়নের কাজ চলছে। জিয়াগঞ্জ স্টেশনের কাজও হবে।
পূর্বরেলের শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন জিয়াগঞ্জ। প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্যরাত্রী পর্যন্ত ১৭ জোড়া ট্রেন চলাচল করে । স্বাভাবিকভাবেই এই স্টেশনে হাজার হাজার যাত্রী ওঠানামা করেন। তাদের খোলা আকাশের নিচে ফুট ওভার ব্রিজের ৫০-৬০ টি সিড়ি পেরিয়ে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যেতে হয়। যাত্রী পরিষেবায় রেলের এই উদাসীনতায় অনেকেই ক্ষোভ উগরে দেন। অভিযোগ, দুই প্ল্যাটফর্ম সংযোগকারী ফুটব্রিজের উপর ছাউনির দাবিতে নিত্যযাত্রী ও জিয়াগঞ্জবাসীর পাশাপাশি রেলযাত্রী সংগঠনের পক্ষ থেকে রেলকে একাধিকবার দরবার করেও লাভ হয়নি। জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা জয়ন্ত পাল বলেন, ওভার ফুটব্রিজের উপর শেড বা ছাউনি না থাকায় সারা বছর একটা সমস্যা রয়েছে। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় দুর্ভোগের শেষ থাকেনা। গ্রীষ্মে চাঁদি ফাটা রোদে এবং বর্ষায় ভিজে ফুটব্রিজ পেরতে হয়। বর্ষার সময় জলে ভিজে ফুটব্রিজের পাটাতন স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বাচ্চা ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হয়ে পড়ে। প্রতিবছর বর্ষায় ফুটব্রিজ পেরনোর সময় একাধিক যাত্রী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গিয়ে জখম হন। এক্ষেত্রে বয়স্কদের সংখ্যাটাই বেশি। নিত্যযাত্রী পারভেজ শেখ বলেন, ফুটব্রিজ পেরনোর সময় বৃষ্টি নামলে কিছু করার থাকেনা। এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্যটিতে যেতে সম্পূর্ণ ভিজে যেতে হয়। যাত্রী পরিষেবা হিসেবে রেল ছাউনি দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ রেলযাত্রী সংগঠনের রাজা ঘোষ বলেন, জিয়াগঞ্জ স্টেশনে ফুটব্রিজে ছাউনির দাবিতে রেলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার দরবার করা হয়েছে। আশ্বাস মিললেও দাবি পূরণ হয়নি।