নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সপ্তম পে কমিশনের আওতা থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্য সরকারি সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং তিনটি স্বশাসিত পর্ষদের সমস্ত কর্মী। ২৯ জুলাই যে যে সংস্থার তালিকা সরকার থেকে প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে নেই তাঁরা। সংখ্যাটা কম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৩ হাজার কর্মীর পাশাপাশি পর্ষদগুলি ধরলে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী বাদের খাতায় পড়ছেন বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। ফলে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত কর্মীর মধ্যেই ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বাদ পড়াদের তালিকায় রয়েছেন রাজ্য সরকারি ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিকরা অবশ্য পে কমিশনের অন্তর্ভুক্ত। তবে বিভিন্ন বোর্ডের আধিকারিকরা এখনও পে কমিশনের বাইরে রয়েছেন বলে খবর।
ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নেতা শুভেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বাম আমলে কখনওই পে কমিশনে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করা হত না। পরে পে কমিটি গঠন করে অনেক আর্থিক সুবিধা কাটছাঁট করে আমাদের বেতনবৃদ্ধির সুপারিশ করা হত। তৃণমূল আমলে, ২০১৫ সালে যখন ষষ্ঠ পে কমিশন গঠিত হয়, তখন পে কমিটির পরিবর্তে সরাসরি পে কমিশনে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছিল এই কর্মীদের তরফে। ২০১৮ সালে তিনদিন কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে আমরা অনশনও করি। অবশেষে ২০১৯ সালে রাজ্য সরকার দাবি মেনে আমাদের পে কমিশনের অন্তর্ভুক্ত করে। পে কমিশনে ঢোকার পর কর্মীরা ভেবেছিলেন, এবার থেকে এই পদ্ধতিই চলবে। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই সরকারি কর্মীদের ডিএ, পে কমিশন নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবির অবসান ঘটাতে উদ্যোগী হয়েছে। তাই ফের এভাবে বঞ্চিত হওয়ায় কর্মীরা হতবাক।’ কলকাতাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী ইউনিয়ন ইতিমধ্যে অর্থ এবং উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছে কমিশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে। স্মারকলিপি জমা দেওয়া, আধিকারিকদের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাৎ, সবই হয়েছে। বিজেপি প্রভাবিত ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি কর্মচারী পরিষদের তরফেও সম্প্রতি অর্থদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রের কাছে এই দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে।
পরিষদের স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্মীবান্ধব মনোভাব দেখিয়েছে। তাই তারা নিশ্চিত, অ্যানেক্সচারে (সংযুক্ত তালিকায়) বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’ যদিও ঘনিষ্ঠ মহলে কর্মীরা অবশ্য এতটা নমনীয় মতামত রাখছেন না। অনেকেরই ধারণা, একটা বড়ো অংশের কর্মী, আধিকারিকদের পাওনা মেটাতে গিয়ে কার্যত বলি দেওয়া হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ও পর্ষদের কর্মীদের স্বার্থ। কিছুদিন অপেক্ষার পরে সরকার যদি দাবিমতো পদক্ষেপ না করে, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাঁরা।