নয়াদিল্লি: এখন দেশের ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রয়েছে বিজেপি সরকার। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ঘোষণা, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপি শাসিত ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনকে সামনে রেখে ৩০ দিনের ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার মুম্বইতে ওই অভিযান সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাজ্যে এই বিধি চালু হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং অসমের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে সম্পূর্ণভাবে ইউসিসি চালু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে কমিটি গঠন করেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে ইউসিসি নিয়ে নয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ইতিমধ্যে দিল্লির বঙ্গভবনে এই নিয়ে বৈঠকও হয়েছে।
রবিবার মুম্বইতে অন্য একটি অনুষ্ঠানে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাস মুছে ফেলা’র অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিজেপি সরকার এখন ইতিহাসকে ‘ঔপনিবেশিক প্রভাব’ মুক্ত করার কাজ করছে। এদিন ঐতিহাসিক মুম্বই দুর্গের টাউন হলে এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে গণেশ জ্ঞানার্থী প্রদর্শনীর সূচনা করেন। ১২ দিনের অনুষ্ঠানের সূচনা করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাস মুছে ফেলার যে কথা বলা হচ্ছে, আমি তার সঙ্গে সহমত নই। এই বিষয়ে আমি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করি। প্রকৃত জ্ঞান কখনও মতাদর্শে বাঁধা থাকতে পারে না।’ এরপরেই তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে ঔপনিবেশিক প্রভাব দূর করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘এর অর্থ ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বিশ্বাসযোগ্য ইতিহাসকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা।’
তাঁর মতে, ক্ষমতা ধরে রাখতে ইতিহাস, জ্ঞান, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে অস্ত্র করেছিল ব্রিটিশরা। অমিত শাহ বলেন, ‘ব্রিটিশরা জ্ঞান এবং ক্ষমতাকে মিলিয়ে দিয়েছিল। এখন এগুলিকে আলাদা করার সময় এসেছে।’