


লখনউ: বেঁচে আছেন বহাল তবিয়তে। কিন্তু সরকারি রেকর্ডে তিনি ‘মৃত’। এই পরিস্থিতিতে অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য কী পরিমাণ লড়াই করতে হয়, তা ‘কাগজ’ ছবিতে তুলে ধরেছিলেন পরিচালক সতীশ কৌশিক। ২০২১ সালের সেই সিনেমার মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন পঙ্কজ ত্রিপাঠি। সরকারি কর্মীর সামান্য একটি ভুলে কীভাবে একজন জীবিত মানুষকে বেঁচে থাকার প্রমাণ জোগাড়ের জন্য আদালতের চক্কর কাটতে হয়, তা ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। যাঁর উপরে ভিত্তি করে এই চরিত্র নির্মাণ, তিনি হলেন লাল বিহারী। উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলার এক গরিব কৃষক। তাঁকে ধোঁকা দিয়েছিলেন নিজের কাকা। জমি হাতাতে ১৯৭৬ সালের ৩০ জুলাই ‘মৃতক’ অর্থাৎ ‘মৃত’ বলে সরকারি খাতায় ভাইপোর নাম তুলেছিলেন। পরে লাল বিহারী ব্যবসা শুরুর জন্য ঋণ নিতে গেলে গোটা বিষয় সামনে আসে। শুরু হয় তাঁর ‘জীবিত’ প্রমাণের লড়াই। ১৮ বছর ‘মৃত’ তকমা বহনের পর সম্প্রতি হারিয়ে যাওয়া ‘জীবন’ ফিরে পেলেন তিনি। এই ১৮ বছরে জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে কী করেননি লাল বিহারী! রাজীব গান্ধী ও ভিপি সিংয়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে শুরু করে নিজের ভাইপোকে অপহরণ বা স্ত্রীকে দিয়ে বিধবা ভাতা পাওয়ার চেষ্টা—সব কিছু করেছেন। লক্ষ্য একটাই, যাতে সরকারি খাতায় ‘জীবিত’ হিসেবে তাঁর নাম ওঠে। তাহলেই ফিরে পাবেন হারানো সম্পত্তি। নানা ফন্দিফিকির করে একদিন বিধানসভায় ঢুকে বিক্ষোভ দেখান বিহারী লাল। তখনই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের নজরে পড়েন। ১৯৯৪ সালের ৩০ জুন তাঁর নাম সরকারি খাতায় তোলা হয়। ১৮ বছর পর, সম্প্রতি তাঁকে ‘জীবিত’ বলে মেনে নেয় সরকার।