


পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: সিউড়ি শহরের ভোট কোন দিকে, তা নিয়ে বীরভূম জেলার রাজনীতিতে জোরদার আলোচনা চলছে। গত কয়েকটি নির্বাচনে এই শহরের মানুষ শাসকদলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে এবার শহরের মানুষের ভোট পাওয়ার আশা করছে শাসকদল। কারণ বিজেপির আগ্রাসী মনোভাব শহরবাসীর একাংশ পছন্দ করছে না। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শহরে ঘাটতি থাকলেও শাসকদলের তুরুপের তাস হবে আলুন্দা ও সাহাপুর পঞ্চায়েত।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯সালের লোকসভা নির্বাচনে সিউড়ি পুরসভা এলাকায় তৃণমূল ৫,৬৩১ ভোটে পিছিয়েছিল। একুশের বিধানসভায় সেই ব্যবধান কমে ৭৫৮ হয়। ফের চব্বিশের লোকসভায় তা বেড়ে হয় ৬,২৪৮। তবে, সকলেই একটা কথা বলছেন, লোকসভা ভোটের পরিসংখ্যান দিয়ে বিধানসভার হিসাব করা ঠিক হবে না। দু’টি নির্বাচনে ফলাফল ভিন্ন হয়। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হওয়ায় শাসকদল কিছুটা অ্যাডভান্টেজ পায়। লোকসভা ভোটে বেনিফিট পায় বিজেপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিক পরিষেবা নিয়ে শহরের মধ্যবিত্তের মধ্যে অসন্তোষ আছে। ফুটপাত দখল, যানজটে ভোগান্তি থেকে পানীয় জলের সঙ্কটে জেরবার শহরবাসীর একাংশ ক্ষুব্ধ। তবে, যেভাবে বাংলা দখলের জন্য বিজেপি মরিয়া হয়ে উঠেছে তাতে শহরের শিক্ষিত মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সেটা বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে বিজেপি বিপাকে পড়বে।
সাধারণত শহরে তৃণমূলের ঘাটতি মেটায় গ্রামাঞ্চল। একুশের নির্বাচনে আলুন্দা অঞ্চল থেকেই ৬,৪৭৭ ভোটের লিড পেয়েছিল ঘাসফুল শিবির। ঠিক একই ছবি দুবরাজপুর ব্লকেও। সেখানেও অন্যান্য অঞ্চলের থেকে অনেক বেশি ভরসা জুগিয়েছে সাহাপুর অঞ্চল। প্রায় ৬ হাজার ভোটের লিড দিয়ে দলের মুখ রক্ষা করেছে তারা।
তবে, গত লোকসভা নির্বাচনে সিউড়ি-১ ব্লকে তৃণমূলের লিড কিছুটা বাড়লেও কড়িধ্যা, খটঙ্গা কিংবা তিলপাড়ার ক্ষত সারেনি। সেখানেও ‘লাইফলাইন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই আলুন্দা অঞ্চলই। ৫,৪৭৯ ভোটের লিড পেয়েছিল তৃণমূল। একইভাবে দুবরাজপুর ব্লকের চারটি অঞ্চল থেকে তৃণমূল প্রায় সাড়ে দশ হাজার ভোটে লিড পেয়েছিল। এরমধ্যেই সাহাপুর অঞ্চল শতাব্দী রায়কে সাড়ে ছ’হাজার ভোটের লিড দিয়েছিল। তৃণমূলকে ভরসা জুগিয়েছে রাজনগর ব্লকের পাঁচটি অঞ্চল। চব্বিশের নির্বাচনে এই পাঁচটি অঞ্চল থেকে তৃণমূল ৫৩৮৪ ভোটে লিড পেয়েছিল। যদিও জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, ‘উন্নয়নের ফাঁকা বুলি আউড়ে রাজ্যকে দিনের পর দিন পিছিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল। এই জনবিরোধী সরকারটাকে এবার সমূলে উৎপাটন করার সময় এসেছে।’
সিউড়ি শহর তৃণমূলের সহ সভাপতি রমারঞ্জন চট্টোপাধ্যায় বলেন, শহরের মানুষ হয়তো কোথাও আমাদের উপর একটু অভিমান করেছেন। কিন্তু তৃণমূল প্রার্থী তথা পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় সেই ক্ষোভ মিটিয়েছেন। শহরের মানুষ জানেন, উজ্জ্বলবাবুকে ২৪ ঘণ্টা পাশে পাওয়া যাবে। তৃণমূল প্রার্থী বলেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও প্রচুর উন্নয়ন করেছে আমাদের সরকার। আমি নিশ্চিত, সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মানুষ তৃণমূলকেই ভোট দেবেন।