Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

উজ্জ্বলা গ্যাসে গরিবের লাভ কতটা? সমীক্ষা শুরু করছে নীতি আয়োগ

উজ্জ্বলা গ্যাসে গরিবের লাভ কতটা? সমীক্ষা শুরু করছে নীতি আয়োগ
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রকৃত যারা গরিব মানুষ, তারাই কি শুধু উজ্জ্বলা গ্যাস যোজনা পাচ্ছে? নাকি জাল নথি পেশ করে বহু উপরতলার মানুষও পেয়ে যাচ্ছে সস্তার গ্যাস সংযোগ? প্রথমবার ফ্রি সংযোগ এবং ফ্রি সিলিন্ডার পাওয়ার পর আদৌ কতজন সেই গ্যাস সংযোগ ধরে রাখতে পারছে? উজ্জ্বলা গ্যাসের সিলিন্ডার কেনার ক্ষমতা না থাকায় দেশের কোন কোন রাজ্যের গ্রাহকের সংযোগ ছেড়ে দেওয়া অথবা আর সিলিন্ডার না কেনার প্রবণতা সবথেকে বেশি? এই তাবৎ প্রশ্ন নিয়ে বেশ কিছু বছর ধরে চলছে শোরগোল। বিরোধীরা অভিযোগ করেছে  উজ্জ্বলা স্রেফ প্রচার। আসলে বহু গরিব মানুষ গ্যাসের সংযোগ ছেড়ে আবার কাঠ কিংবা উনুনের জ্বালানিতেই ফিরে গিয়েছে।  এই তাবৎ অভিযোগের সত্যতা কতটা এবং যদি তা সত্যি হয়, তাহলে কী করা উচিত— তা নতুন করে  খতিয়ে দেখতে চায় নীতি আয়োগ। আয়োগের ডেভেলপমেন্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিস বিভিন্ন পরামর্শদাতা সংস্থার কাছে আবেদনপত্র চেয়েছে। যাদের প্রস্তাব এবং আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে, তাদের বেছে নেওয়া হবে। ওই সংস্থাগুলিকে দেওয়া হবে উজ্জ্বলা সমীক্ষার দায়িত্ব। ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই আ঩বেদন জমা দিতে হবে। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ উজ্জ্বলা নিয়ে কেন নীতি আয়োগের এই সক্রিয়তা? রাজনৈতিক মহলের অনুমান, প্রধানমন্ত্রী মোদির তথ্যকে প্রতিষ্ঠিত করতেই এই উদ্যোগ। কারণ মোদি বলেছিলেন, ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার উপরে উঠে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে তাঁরা উজ্জ্বলা ছাড়ছেন না কেন? সেই জন্যই সমীক্ষার আয়োজন। তারপর প্রচার চলবে, যারা ২০১৬ সালের পর থেকে ক্রমেই দারিদ্রসীমার উপরে চলে এসেছে, তারা এবার ভর্তুকি ছেড়ে দিক। 
Advertisement
আর এভাবেই কমানো হবে উজ্জ্বলার গ্রাহক। ২০২০ সালে উজ্জ্বলা গ্যাস সংযোগের প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় হয়েছিল ৩ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চার বছরে ব্যয় দ্বিগুণ। কিন্তু গরিবদের কতটা লাভ হল? নীতি আয়োগ জানতে চাইছে, উজ্জ্বলার সংযোগ এবং ভর্তুকি বাবদ ব্যয়বরাদ্দ এবং উপভোক্তার সংখ্যাবৃদ্ধি দেখিয়ে প্রকল্পের সাফল্য প্রচার হচ্ছে কি না। বরং এই প্রকল্প কাদের কাছে পৌঁছচ্ছে। কাদের কাছে পৌঁছচ্ছে না। কেন বহু মানুষ সংযোগ নিয়মিত রাখতে পারছে না। ভর্তুকি নেওয়ার প্রবণতা এবং গতিপ্রকৃতি কী? এই সব তথ্য জানতে সমীক্ষা করা হবে এক বছর ধরে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ