আগ্রা: প্রশাসনের উদাসীনতায় কার্যত মুছে গেল ইতিহাস! উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় প্রোমোটারের হাতে ভাঙা পড়ল মুঘল সম্রাট শাহাজাহান, আওরঙ্গজেবের স্মৃতিবিজড়িত হাভেলি ‘মুবারক মঞ্জিল’। সপ্তদশ শতকের ওই ভবনটিকে রক্ষা করার জন্য মাস তিনেক আগেই নোটিস জারি করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু তারপরেও কীভাবে ঐতিহাসিক ভবনের প্রায় বেশিরভাগ অংশ ভেঙে ফেলা হল, তা নিয়ে কারও কাছেই কোনও উত্তর নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হাভেলিটি ভেঙে ফেলে প্রায় একশো গাড়ি ধ্বংসস্তূপও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে যোগযাজশ করেই ভবনটি ভেঙে ফেলেছেন ওই প্রোমোটার। প্রশ্ন উঠছে, মুঘল আমলের স্থাপত্য বলেই কি মুবারক মঞ্জিল রক্ষার বিষয়ে যোগী প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি?
Advertisement
বিভিন্ন ইতিহাসবিদের মতে, দারা শিকোকে সমুগড়ের যুদ্ধে হারানোর পর যমুনা নদীর ধারে ‘মুবারক মঞ্জিল’ তৈরি করেছিলেন আওরঙ্গজেব। অনেকের আবার দাবি, আদতে হাভেলিটি তৈরি করেছিলেন দারা শিকো। তাঁকে হারানোর পর সেটির নতুন নামকরণ করেন আওরঙ্গজেব। লাল বেলেপাথরের তৈরি বাড়িটিতে আওরঙ্গজেব ছাড়াও তাঁর ভাই সুজা ও ক্ষমতাচ্যুত শাহজাহানও কিছুদিন ছিলেন বলে জানা যায়। পরে ইংরেজ আমলে হাভেলিটি সংস্কার করে অফিস হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ের অফিস হিসেবেও ভবনটি ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯০২ সাল থেকে ভবনটি তারা নিবাস হিসেবেও পরিচিত।
গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য পুরাতত্ত্ব দপ্তর হাভেলিটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কারও কোনও আপত্তি আছে কি না জানতে নোটিস দেয়। কেউ তাতে সাড়া না দেওয়ায় লখনউ থেকে আধিকারিকরা এসে ভবন সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজও শুরু করেন। কিন্তু তার কিছুদিনের পরেই হাভেলি ভাঙার কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের কাছেই পুলিস ফাঁড়ি রয়েছে। কিন্তু তারপরেও ভাঙাভাঙি আটকাতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুরো বিষয়টিতেই মদত দিয়েছে পুলিস ও প্রশাসনের একাংশ। ভবনটির ৭০ শতাংশই ভেঙে ফেলা হয়েছে। আগ্রার জেলা শাসক অরবিন্দ বাঙ্গারির দাবি, ঐতিহাসিক ভবনটি ভেঙে ফেলার বিষয়ে প্রশাসন অবহিত। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ ও রাজস্ব বিভাগকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহকুমা শাসককেও রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ওই ভবনে আর কোনও কাজ করা যাবে না।
গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য পুরাতত্ত্ব দপ্তর হাভেলিটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কারও কোনও আপত্তি আছে কি না জানতে নোটিস দেয়। কেউ তাতে সাড়া না দেওয়ায় লখনউ থেকে আধিকারিকরা এসে ভবন সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজও শুরু করেন। কিন্তু তার কিছুদিনের পরেই হাভেলি ভাঙার কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের কাছেই পুলিস ফাঁড়ি রয়েছে। কিন্তু তারপরেও ভাঙাভাঙি আটকাতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুরো বিষয়টিতেই মদত দিয়েছে পুলিস ও প্রশাসনের একাংশ। ভবনটির ৭০ শতাংশই ভেঙে ফেলা হয়েছে। আগ্রার জেলা শাসক অরবিন্দ বাঙ্গারির দাবি, ঐতিহাসিক ভবনটি ভেঙে ফেলার বিষয়ে প্রশাসন অবহিত। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ ও রাজস্ব বিভাগকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহকুমা শাসককেও রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ওই ভবনে আর কোনও কাজ করা যাবে না।



