Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

‘শত্রু বিজেপিকে’ হারাতে হাতে হাত রাখলেন উদ্ধব-রাজ, ঘুচল দু’দশকের দূরত্ব

দীর্ঘ কুড়ি বছর পর একমঞ্চে এমএনএস প্রধান রাজ থ্যাকারে ও শিবসেনা প্রধান উদ্ধব থ্যাকারে।

‘শত্রু বিজেপিকে’ হারাতে হাতে হাত রাখলেন উদ্ধব-রাজ, ঘুচল দু’দশকের দূরত্ব
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ১৫:০৭
Prefer us on Google

মুম্বই, ৫ জুলাই: মারাঠি অস্মিতায় কাছে টেনে আনল। ঘুচল দূরত্ব। দীর্ঘ কুড়ি বছর পর একমঞ্চে এমএনএস প্রধান রাজ থ্যাকারে ও শিবসেনা প্রধান উদ্ধব থ্যাকারে। তবে শুধুই একমঞ্চে নয়। এবার থেকে একসঙ্গে চলার ডাক দিলেই দুই নেতা। যার ফলে মারাঠা ভূমে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের মধ্যে থাকা দীর্ঘদিনের বিবাদ মিটিয়ে এবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের জন্য এগিয়ে এলেন বালাসাহেব থ্যাকারের ছেলে উদ্ধব ও ভাইপো রাজ। তাঁদের দু’জনের মধ্যে কাছাকাছি আসার জন্য অনুঘটকের মতো কাজ করেছে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের ত্রিভাষা নীতি। জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল মহারাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের দ্বারা। এমনটাই অভিযোগ বিরোধী শিবিরের। যার তীব্র বিরোধ করেন উদ্ধব থ্যাকারে ও রাজ। এই নীতি লাগু হলে মহারাষ্ট্রের বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। ঘরে-বাইরে চাপে পড়ে অবশেষে হিন্দি ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পথ থেকে সরে আসে ফড়নবিশের সরকার।

Advertisement

মহারাষ্ট্র সরকারের এই পিছু হটাকেই নিজেদের জয় বলে দাবি করেন উদ্ধবের শিবসেনা শিবির ও রাজের দলের নেতারা। তার ফলস্বরূপ আজ, শনিবার মুম্বইতে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়। তাতেই একসঙ্গে দেখা যায় উদ্ধব ও রাজকে। তবে নেহাত ত্রিভাষা নীতিতেই নয়, তাঁরা দু’জনে একসঙ্গে এসেছেন বিজেপিকেই শেষ করতে। তা বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেন রাজ থ্যাকারে। তিনি বলেন, ‘যে কাজটা বাল থ্যাকারে করতে পারেননি, অন্য অনেকে করতে পারেননি। সেটাই করে দেখিয়েছেন ফড়নবিশ। আমাদের এক করে দিয়েছে। আপনারা হয়তো বিধানভবনে ক্ষমতাতে রয়েছেন কিন্তু আমাদের ক্ষমতা রাস্তায়। আমাদের উপর হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মানব না। এই তিন ভাষার ফর্মুলা আপনারা কোথা থেকে পেলেন? এটা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের। এখন হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে সব কিছুই লেখা হয় ইংরেজিতে। এই তিন ভাষা নীতির আর কোনও রাজ্যে নেই। আমি কোনও ভাষার বিরুদ্ধে নই। কোনও ভাষাই খারাপ নয়। যখন মারাঠা সাম্রাজ্য ছিল তখন কোনও প্রদেশের উপর মারাঠি ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।’

উদ্ধব বলেন, ‘বিজেপি গোটা দেশে সবকিছুকে এক করে দিতে চাইছে। হিন্দু বা হিন্দুস্তানে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু হিন্দি আমরা মানব না। বিজেপির কাছে আমরা হিন্দুত্বও শিখব না। আমরা এক হয়েছি একসঙ্গে থাকব বলেই। মারাঠি ভাষাকে বাঁচাতেই আমরা এক হয়েছি। আপনাদের একটা কথাই বলতে চাই, এটা শুধুই ট্রেলার। ফড়নবিশ মশাই বলেছেন ভাষাকে কেন্দ্র করে কোনও গুন্ডামি বরদাস্ত করব না। যদি একজন মারাঠি ন্যায়ের জন্য লড়ে, আর আপনারা সেটাকে গুন্ডামি বলেন, তাহলে আমরা সবাই গুন্ডা।’ তবে রাজনৈতিক মহলের জল্পনা বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি হওয়ার পরেই হাতে হাত মিলিয়েছেন উদ্ধব ও রাজ। কারণ মহারাষ্ট্রে তাঁদের অস্তিত্ব টিকিয়ে থাকার লড়াই চলছে এখন। কিছুদিন বাদেই বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের নির্বাচন। তাতেও জোট বেঁধে প্রার্থী দেবেন তাঁরা এমনটাই শোনা যাচ্ছে। ২০০৫ সালে শিবসেনা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন রাজ থ্যাকারে। তারপর ২০০৬ সালে নিজের দল গড়েন বালাসাহেব থ্যাকারের ভাইপো। সেই থেকেই দূরত্ব ছিল উদ্ধবের সঙ্গে। যা আজ, শনিবার প্রায় কুড়ি বছর পর ঘুচে গেল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ