Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উদ্বোধনেই নজর কাড়ল গোঁসাই পরব, বাউলে মাতোয়ারা আরামবাগ

উদ্বোধনেই নজর কাড়ল গোঁসাই পরব, বাউলে মাতোয়ারা আরামবাগ
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ‘তুমি আনন্দময় গো গুরু আনন্দময়/ সদানন্দে থাকে যেন আমারই হৃদয়।’ আন্তর্জাতিক গোঁসাই পরবের সুর এই কথাতেই বেঁধে দিলেন বিখ্যাত বাউলশিল্পী মাকি কাজুমি। পরবের মাঝ মাঠে ধুনি জ্বালিয়ে তার সূচনাও করেন তিনিই। সেই ধুনির আগুন জ্বলবে পরবের শেষদিন পর্যন্ত। বুধবার গোধূলি লগ্নে এক মায়াময় পরিবেশে শুরু হয়ে গেল আন্তর্জাতিক গোঁসাই পরব। তারপরই দু’হাত তুলে আরামবাগ শহর সংলগ্ন তেঘরি মাঠে বাউলে মত্ত হয়ে ওঠেন বাসিন্দারা। আগামী ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এই পরব চলবে। তবে প্রথমদিনেই ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। এদিন পরবের উদ্বোধন করেন হুগলির জেলাশাসক মুক্তা আর্য। তিনি গোসাঁই পরব আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, গোসাঁই পরব নদী থেকে সাগর হোক। এই কামনা করি। তিনি আরও বলেন, এই মাঠেই হুগলি জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৩০ জানুয়ারি থেকে সৃষ্টিশ্রী মেলা অনুষ্ঠিত হবে। 
Advertisement
এদিন সকালেই গোসাঁই পরবের সদস্য ও অনুরাগীদের নিয়ে শোভাযাত্রা হয়। নাচে গানে আরামবাগ শহর পরিক্রমা করে ওই শোভাযাত্রা। অনুষ্ঠানে হাজির হন বহু বাউল শিল্পী সহ প্রশাসনিক কর্তারা। মূল মঞ্চ খড়ের ছাউনির। পরবের মাঠজুড়ে স্থান পেয়েছে নানা গ্রামীণ শিল্প। কুলো, ঝুড়ির সজ্জা মন কাড়বে। এছাড়াও রয়েছে নানা হস্তশিল্পের স্টল। তবে পরবের বাইরেও বসেছে মেলা।
পড়ন্ত বিকেলে খুদেরা সরস্বতী বন্দনায় মুখরিত হল। বাঁশি, এসরাজ, তবলা, একতারা, ঢোল, ঢাকের বাদ্যিতে শ্রোতারা ভেসে গেলেন সুরের মূর্ছনায়। সেটিই ছিল উদ্বোধনী সঙ্গীত। খোলা মাঠে বাউল শিল্পীদের নাচ গান মন কুড়িয়েছে আট থেকে আশি সবারই। গোঁসাই পরবের সদস্য আকাশ মণ্ডল বলছিলেন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও বাউলের সমন্বয় ঘটিয়ে উপস্থাপনা করা হয়। এদিন জেলাশাসকের অনুরোধে বাঁশিতে কৃষ্ণদাস মণ্ডল ও ঢোলে সৈকত চক্রবর্তী কার্যত তুফান তোলেন। তাঁদের যুগলবন্দিতে পরবের মাঠে সবাই গেয়ে ওঠেন ‘মিলন হবে কত দিনে আমার মনের মানুষের সনে।’ 
গোঁসাই পরবের পক্ষে অশোক নন্দী, শান্তনু রায় বলেন, বাউল মনে শান্তি আনে। সেই শান্তির খোঁজেই আগামী কয়েকদিন চলবে অনুষ্ঠান। মানব ধর্মের বার্তা ছড়িয়ে দেবেন শিল্পীরা। আরামবাগের মানুষ পরবে শামিল হবে সেই আশা রাখি।
এদিনই হস্তশিল্পের নানা সম্ভার দেখতে বহু মানুষ উৎসব প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। অনেকেই নানা সামগ্রী কিনে নিয়ে যান। কেউ আবার নিখাদ বাউল শুনতেই আসেন। তারই মাঝে ‘ভালোবাসার গোঁসাই পরবের’ সামনে নিজেকে ক্যামেরাবন্দি করেন বহু মানুষ। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ