শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: মধ্যমগ্রামের আকাশে পুজোর গন্ধ। চারপাশে যখন উৎসবের রং চড়তে শুরু করেছে তখন রাজকীয় সাজে সেজে উঠতে তৈরি উদয়রাজপুর হরিহরপুর সর্বজনীনও। ৭৭ বছরে পা দিয়ে এবার তাদের ভাবনায় রাজস্থান। শহরের বুকে তৈরি হচ্ছে এক টুকরো রাজকীয় রাজস্থান। হচ্ছে ‘মার্বেল প্যালেস’। সাদা রাজপ্রাসাদের আদলে তৈরি হবে মণ্ডপ। সেই প্রাসাদের অন্দরে অপেক্ষা করবে ‘শিস মহল’। আলো জ্বলবে, নিভবে। অন্ধকারের বুক চিরে ফুটে উঠবে আলোর কারুকাজ। কখনও মনে হবে রাজস্থানের কোনো পুরানো রাজপ্রাসাদের অলিন্দে দাঁড়িয়ে দর্শক। কখনও আবার বাংলার শারদোৎসবের আবেগ এসে মিশবে সেই রাজকীয় পরিবেশে। তবে এ পুজোয় শুধু চোখ ধাঁধানো প্রাসাদ নয়, গল্পও থাকবে। প্যালেসের দেওয়ালে ফুটে উঠবে রাজস্থান ও পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্কের ইতিহাস। স্থাপত্যের অলঙ্করণের ফাঁকে ফাঁকে উঠে আসবে দুই প্রান্তের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং যোগাযোগের নানা অধ্যায়। অর্থাৎ মণ্ডপ দেখার পাশাপাশি ইতিহাসের পাতাতেও চোখ রাখার সুযোগ থাকবে দর্শনার্থীদের। প্রাসাদের সামনে থাকবে গোলাপের বাগান। সারি সারি ফুলের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাবে দর্শনার্থীদের পথ। রাজস্থানের রাজকীয়তা আর বাংলার শরতের কোমলতা, দুইয়ের মেলবন্ধনেই তৈরি হবে পুজোর আবহ। সেই রাজকীয় মণ্ডপের ভিতরে সাবেকি দুর্গা। কুমারটুলির শিল্পী মোহন বাঁশি রুদ্রপালের তৈরি সাবেকি প্রতিমা। থিমের চাকচিক্যের মধ্যেও দেবীর চেনা রূপ ফিরিয়ে আনবে বাঙালির শিকড়ের টান। রাজস্থানের মার্বেল প্যালেসে তাই শেষপর্যন্ত বাংলারই ঘরের মেয়ে উমা। সন্ধ্যা নামলে আলোর সাজে বদলে যাবে গোটা চত্বর। মণ্ডপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থাকবে নজরকাড়া আলোকসজ্জা। দিনের প্যালেস আর রাতের প্যালেস, দুই রূপেই দর্শনার্থীদের চমকে দিতে প্রস্তুত উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির সম্পাদক গোপাল বোস বলেন, এবার আমাদের পুজোর বাজেট ১০ লক্ষ টাকা। আমাদের পুজো হল জৌলুস ও সাবেকিয়ানার অদ্ভুত মিশেল। নিয়ম নীতি মেনে যেমন পুজোর আয়োজন করা হয়। প্রতি সন্ধ্যায় আয়োজন হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বাড়তি আকর্ষণ মনোরম পরিবেশ।
৭৭ বছরের পুজোয় তাই এ বার উদয়রাজপুর হরিহরপুর সর্বজনীনের ভাবনা শুধু একটি মণ্ডপ নয়। রাজস্থানের প্রাসাদ, শিসমহলের ঝলক, গোলাপের বাগান, ইতিহাসের গল্প আর বাংলার সাবেকি দুর্গা। সবমিলিয়ে যেন এক ফ্রেমে ধরা পড়বে দুই সংস্কৃতির সেতুবন্ধন। চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। -নিজস্ব চিত্র



