Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এনওসি ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর হয় না: এডিএম

উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এনওসি ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর হয় না: এডিএম
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: এগরা সারদা শশীভূষণ কলেজের জমি রেজিস্ট্রি পুরোপুরি অবৈধ। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এনওসি ছাড়া কোনও কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি বিক্রি করা যায় না। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি) বৈভব চৌধুরী এগরা-১ বিডিওকে ফোন করে ওই জমি রেকর্ড না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি যে কোনও দপ্তরের জমির মালিকানা বদলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এনওসি জরুরি। কলেজের জমির ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে এনওসি নেওয়া বাধ্য‌তামূলক। তা না হলে মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া বৈধ নয়।
Advertisement
এগরা কলেজের গভর্নিং বডি রেজ্যুলিউশন করে মোট ৩২৪ডেসিমল জমি বিক্রি করেছে। জমির বর্তমান মূল্যের তিন ভাগের একভাগ দামে ওই জমি বিক্রির ঘটনায় এগরায় শোরগোল পড়ে যায়। ৩১জানুয়ারি অধ্য‌ক্ষ দীপককুমার তামলি অবসর নিয়েছেন। তার দু’দিন আগে ২৮তারিখ তিনি কলেজের বিপুল পরিমাণ জমি বিক্রি করেছেন। ক্রেতার তালিকায় এগরা শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি উদয় পালের শাশুড়ি পম্পা নন্দ, এগরার ১৩নম্বর ওয়ার্ড কমিটির তৃণমূলের সভাপতি গৌতম আচার্যের জামাই কৃষ্ণেন্দু মাইতি প্রমুখ আছেন। বাজকুল-এগরা রাজ্য সড়কের ধারে পুরসভার মধ্যে জলের দরে দুই তৃণমূল নেতার আত্মীয়কে জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
কলেজের সম্পত্তি জলের দরে বিক্রির ঘটনায় প্রিন্সিপালের পাশাপাশি গভর্নিং বডির ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। কারণ, গভর্নিং বডিতে আলোচনা করেই জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই জমি বিক্রির প্রক্রিয়া বৈধ নাকি অবৈধ, তা নিয়ে এলাকার চায়ের দোকান থেকে সর্বত্র চর্চা চলছিল। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যে কোনও সরকারি সম্পত্তি স্বশাসিত সংস্থা লিজে দিতে পারে। কিন্তু, বিক্রি করতে হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এনওসি বাধ্যতামূলক। কলেজের গভর্নিং বডি মনে করলেই প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বিক্রি করতে পারে না। এনওসি ছাড়া উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কোনও প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি রেজিস্ট্রি হলে একইভাবে কলেজের আস্ত বিল্ডিংও বিক্রি করা যেত। কিন্তু, গভর্নিং বডিকে এই এক্তিয়ার দেওয়া হয়নি। এরজন্য‌ অবশ্য‌ই উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এনওসি চাই।
কলেজের সম্পত্তি ক্রয়ের তালিকায় দুই তৃণমূল নেতার আত্মীয় যুক্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। এনিয়ে বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলের একটা বড় অংশের তোপের মুখে পড়েছেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি তথা বিধায়ক তরুণকুমার মাইতি। দীর্ঘদিন ধরে কলেজের সম্পত্তি বিক্রির ঘটনা ঘটছে। সদ্য অবসর নেওয়া অধ্যক্ষ দীপকবাবু জানিয়েছেন, মোট তিন একর ২৪ডেসিমল জমি তিনি নিজেই রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। কলেজের অ্যাকাউন্টে বিক্রির টাকা ঢুকেছে। আবার তিন বর্গাদারের কাছ থেকে কিছু জমি আদায় করা হয়েছে। এজন্য ওই তিন বর্গাদারকে মাথাপিছু ২লক্ষ ৪৫হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। সম্পত্তি বিক্রির টাকায় কলেজের তহবিল বৃদ্ধি করে ক্যাজুয়াল কর্মীদের মাইনে দেওয়া হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টের যুগ্ম অপারেটর হলেন কলেজের প্রিন্সিপাল ও গভর্নিং বডির সভাপতি। সুতরাং, তরুণবাবু গোটা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তাই তাঁকে নিশানা করছে বিরোধী থেকে শাসকদলের বড় অংশ। এগরা শহর তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি উত্তম দাস বলেন, যেভাবে কলেজের সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে তার জোরালো প্রতিবাদ হওয়া উচিত। আমরা এগরাবাসী হিসেবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। এরসঙ্গে যাঁরা জড়িত প্রত্যেককে আই঩নের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। তরুণবাবু বলেন, জমি বিক্রি নিয়ে তদন্ত করতে গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে মহকুমা শাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  
 শেষ মুহূর্তে চোখ বুলিয়ে নেওয়া। তমলুক হাইস্কুলের সামনে চন্দ্রভানু বিজলির তোলা ছবি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ