


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুরভবনের ভিতর গাছের ডাল ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল দু’জনের। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাওড়ায়। বুধবার সকালে পুরসভার ভিতর ইউক্যালিপটাস গাছের নীচে বসে গল্প করছিলেন দুই নিরাপত্তা কর্মী। আচমকা গাছের ডাল ভেঙে পড়ে তাঁদের মাথায় উপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া পুরসভা ভবনের মুখ্য প্রশাসকের ঘরের পাশে। মৃত দুই কর্মীর নাম মহম্মদ নূর ইসলাম (৫৫) ও উমেশ মাহাতো (৪৮)। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরে হাওড়া পুরসভায় যান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। মৃত দুই কর্মীর পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি চাকরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
উমেশ মাহাতো হাওড়া পুরসভার স্থায়ী কর্মী। পুরসভার ভিতরেই থাকতেন তিনি। অন্যদিকে, বারাসাতের বাসিন্দা মহম্মদ নূর অস্থায়ী কর্মী। নাইট ডিউটি শেষ করে সকালে নূর মুখ্য প্রশাসকের ঘরের বাইরে থাকা ইউক্যালিপটাস গাছের নীচে বসেছিলেন। অন্য নিরাপত্তা কর্মী এসে ডিউটি শুরু করবেন বলে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। নূরের পাশেই বসেছিলেন উমেশ ও অন্য একজন। উমেশেরও এদিন ভোর থেকেই পুরসভায় ডিউটি ছিল। চা খেয়ে গাছের নীচে বসে নূর মোবাইল ঘাঁটছিলেন। পাশে বসে উমেশ খবরের কাগজ পড়ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, আচমকা গাছের একটি বড় ডাল ভেঙে পড়ে তিনজনের উপরে। নূর ও উমেশ গাছের নীচে চাপা পড়ে যান। তাঁদের উদ্ধার করতে দৌড়ে আসেন পুরসভার অন্যান্য কর্মীরা। অচৈতন্য অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা নূর ও উমেশকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তৃতীয় জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তড়িঘড়ি পুরসভায় ছুটে যান মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী। পুরসভার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এসে ভেঙে পড়া গাছের ডাল কেটে সরিয়ে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে দুই কর্মীর পরিবারের সদস্যরা পুরসভায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন পুরসভার মুখ্য প্রশাসক। এরপর দুপুরে হাওড়া পুরসভায় আসেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী পুরহাদ হাকিম। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর মৃতদের পরিবারের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন তিনি। পুরমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এখন ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে না, অথচ একটি গাছ এভাবে ভেঙে পড়ল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত দুটি পরিবারকেই সাহায্য করা হবে। এই ধরনের বিপর্যয় যাতে না ঘটে, সেজন্য হাওড়া পুরসভাকে নজর রাখতে হবে।’ পুরমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পাশাপাশি মৃত স্থায়ী কর্মীর পরিবারের একজন সদস্য সরকারি নিয়মেই চাকরি পাবেন পুরসভায়। মৃত অস্থায়ী কর্মীর পরিবারের একজন সদস্যকেও পুরসভায় নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি দেওয়া হবে।