Bartaman Logo
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অশোকনগরে স্কুল এড়িয়ে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে মৃত্যু দুই পড়ুয়ার

স্কুলে না ঢুকে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়েছিল তিন বন্ধু। কিন্তু সেই মাছ ধরাই কাল হল

অশোকনগরে স্কুল এড়িয়ে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে মৃত্যু দুই পড়ুয়ার
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্কুলে না ঢুকে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়েছিল তিন বন্ধু। কিন্তু সেই মাছ ধরাই কাল হল। গামছা দিয়ে মাছ ধরার সময় পুকুরের জলে তলিয়ে মৃত্যু হল একাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রের। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে অশোকনগরে। মৃতদের নাম প্রথম দাশগুপ্ত (১৭) ও শিবম পাল (১৭)।

Advertisement

স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ও শিবম দু’জনেই অশোকনগর বয়েজ সেকেন্ডারি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। এদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় তারা। কিন্তু স্কুলে না ঢুকে আরও এক সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে চলে যায় স্কুলের পাশের পুকুরে। সেখানে গামছা দিয়ে মাছ ধরছিল তিনজন। কিছুক্ষণ বাদেই ঘটে বিপত্তি। সেই সময় পা হড়কে জলে তলিয়ে যায় প্রথম ও শিবম। চোখের সামনে দুই বন্ধুকে জলে ডুবে যেতে দেখে তৃতীয় ছাত্রটি চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকার শুনে ছুটে আসেন আশপাশের বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুকুর পাড়ে চলে আসেন স্কুলের শিক্ষকরা। এরপর পুকুরে নেমে তল্লাশি শুরু করেন স্থানীয় লোকজন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমকে উদ্ধার করে অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁরা। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, তখনও খোঁজ মেলেনি শিবমের। পুকুরে কচুরিপানা থাকায় তল্লাশিতে সমস্যা হচ্ছিল। স্থানীয়দের পাশাপাশি অশোকনগর থানার সিভিক ভলান্টিয়াররাও জলে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা বাদে কচুরিপানার নীচে থেকে উদ্ধার হয় শিবমের দেহ। প্রথমের বাড়ি অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবা-মা দু’জনেই মারা গিয়েছেন। সে থাকত মামাবাড়িতে। আর পড়াশোনা করত হস্টেলে থেকে। শিবমের বাড়ি এই পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবা একটি গেঞ্জি কারখানায় কাজ করেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার। সহপাঠীরাও শোকস্তব্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা মৌমিতা মজুমদার ও রাজু মজুমদার বলেন, এর আগেও এই পুকুরে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তা সত্ত্বেও পুকুরের চারপাশে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। পুকুরটি ঘিরে দেওয়ার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা বসানো এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। নাহলে এমন বিপদ আরও ঘটতে পারে। মাঝেমধ্যেই এখানে ছাত্ররা এসে বসে থাকে।
এনিয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুরজিৎ মজুমদার বলেন, মর্মান্তিক ঘটনা। আমি স্কুলের কাজে ডিআই অফিসে ছিলাম। এই ঘটনার কথা শুনে ছুটে আসি। স্কুলের পাশের এই পুকুরে স্থায়ী গার্ডওয়াল দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা করব। আজ, বুধবার ক্লাস বন্ধ থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ