


নিজস্ব প্রতিনিধি,নয়াদিল্লি: স্বস্তি এলেও নিশ্চিন্ত হওয়া গেল না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের ফোনের দৌত্যে ইরান নরম হওয়ার আভাস দিয়েছিল শুক্রবারই। ভারতের আটকে থাকা জাহাজকে সংঘাত বিধ্বস্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসতে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। শনিবার ভারতের পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়ে দিল যে, শিবালিক এবং নন্দাদেবী নামের দুই পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। আগামী কাল অথবা মঙ্গলবারই ওই দুই এলপিজি ভর্তি জাহাজ আসছে ভারতে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রক বলেছে, ওই দুই জাহাজের প্রতিটিতে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আছে। অর্থাৎ রান্নার গ্যাসের দেশজোড়া সঙ্কটে স্বস্তির খবর হল, ৯২ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আসছে। যদিও এই স্বস্তির মধ্যেও অস্বস্তিকর প্রশ্ন হল, শুধু এই দুই জাহাজকেই কি হরমুজ প্রণালী থেকে ইরান ছেড়ে দিল? নাকি ভারতের সাপ্লাই লাইন খুলে দেওয়া হল? অর্থাৎ এরপর থেকে ভারতের পতাকা লাগানো জাহাজ দেখলেই কি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড জাহাজ ছেড়ে দেবে? এরকম কোনো সবুজ সংকেত কিন্তু ইরান এখনও দেয়নি। সুতরাং এই স্বস্তি সাময়িক কি না, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ, ইরান বিবৃতি দিয়েই বলেছে যে, ব্রিকস গোষ্ঠী যেন আমেরিকা ও ইজরায়েলের নিন্দা করে। তাদের উপর অন্যায়ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, এই বার্তা যেমন রাশিয়া, চীন স্পষ্টভাবে দিয়েছে—তেমন ভারতও দিক, এটাই চাইছে ইরান।
এদিকে শুক্রবারই এই জাহাজের আসার সবুজ সংকেত পেলেও শনিবার কংগ্রেস বিস্ময়কর দাবি করে। দলের মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, বিজেপি এবং সরকার যে এত উল্লাস প্রকাশ করছে, সেটা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে। কারণ এই দুই জাহাজ ভর্তি এলপিজি অসলে যাবে আমেরিকায়। ভারতের জাহাজ ভাড়া করে আমেরিকায় পাঠানো হচ্ছে ওই এলপিজি। যদিও পবন খেরার এই দাবি উড়িয়ে এদিনই বিকেলে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানায়, ভারতের দুই বন্দরেই আসছে ওই দুই জাহাজ। আর ভারতের গ্রাহকদের জন্যই সেগুলির বণ্টন হবে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা এদিন স্বীকার করেছেন যে, এলপিজি সংকট আছে। তাঁর কথায়, সংকট এমন নয় যে, সাপ্লাই করা যাচ্ছে না। এদিনও তিনি সংকটের জন্য প্যানিক বুকিংকেই দায়ী করেছেন। বলেছেন, যেখানে দিনে ৫৫ লক্ষ বুকিং হয়, সেখানে এখন ৮৮ লক্ষ বুকিং হচ্ছে। একদিন আগেই এই সংখ্যাটি ছিল ৭৫ লক্ষ। যুগ্মসচিব বলেন, লাইনে দাঁড়াবেন না। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বাড়িতে ডেলিভারি হয়। এলপিজি কাউন্টারে গিয়ে লাইন দিলে সিলিন্ডার পাওয়া যাবে এমন নয়। কেন্দ্রীয় কর্তারা মানুষে লাইন দিতে বারণ করলেও প্রকৃত সত্য হল, এলপিজির কালোবাজারি, মজুতদারি, অবৈধ ডেলিভারি প্রবল আকার নিয়েছে। বুকিং করার জন্য অনলাইন পোর্টালও কাজ করছে না বহু ক্ষেত্রে। সবমিলিয়ে এমন নয় যে, মানুষ ইচ্ছা করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে অথবা ভয় পাচ্ছে। বাস্তবে সাপ্লাই সমস্যা হচ্ছেই।