নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নৈহাটির বড়মা’র মন্দিরে ক্রমে ভিড় বাড়ছে। সে কারণে যাত্রী পরিবহণের সুবিধায় হুগলির চুঁচুড়াতে তৈরি হচ্ছে নতুন দু’টি জেটিঘাট। এর ফলে পুণ্যার্থীদের পাশাপাশি কর্মসূত্রে যাতায়াত করা নাগরিকদেরও সুবিধা হবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এই প্রথমবার যাওয়া ও আসার জন্য হবে পৃথক ঘাট। তাতে যাতায়াতের জন্য লঞ্চের সংখ্যা বাড়বে। রাজ্য পরিবহণ দপ্তর ও পুরসভা ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প রূপায়ণে প্রস্ততি শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে জায়গা চিহ্নিত হওয়ার কাজ শেষ। একাধিকবার পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছে পরিদর্শক দল। এরপর পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরুর সবুজ সঙ্কেত মিলেছে।
চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, চুঁচুড়াতে পরিবহণ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে পুরসভা দু’টি আলাদা জেটিঘাট নির্মাণ করবে। নৈহাটি যাওয়ার জন্য চুঁচুড়ায় ভিড় বাড়ছে। সেই মানুষদের নিরাপদে পৌঁছে দিতেই বাড়তি জেটিঘাট তৈরি হবে। পাশাপাশি নৈহাটির বড়মা’র কাছে যাওয়ার জন্য পুণ্যার্থীদের ভিড় বাড়ছে। ফলে নতুন জেটি তৈরির সিদ্ধান্ত। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, আগামী দিনে নৈহাটি যাওয়া ও ফেরার জন্য পৃথক জেটি ব্যবহার করা হবে। তাতে যাত্রীদের সুবিধা হবে। যাতায়াতের সময়ও কমবে। ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, আমাদের সরকার গতির গুরুত্ব বোঝে। পাশাপাশি রাজ্যের পুণ্যার্থীদের আন্তরিক অনুভূতিকে সম্মান করে। আগেই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যজুড়ে বিশেষ পরিবহণ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। তাতে যাতায়াতের জন্য রাস্তার সুসংহত পরিকল্পনা হয়েছিল। পাশাপাশি জলপথ পরিবহণকেও আধুনিক করার নীল নকসা তৈরি করা হয়েছে। চুঁচুড়ার জলপথ পরিবহণকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা তারই অঙ্গ। পরিবহণ দপ্তর ও পুরসভা দ্রুত পরিকল্পনা রূপায়ণ করুক, সেটাই চাইব।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন দু’টি জেটিঘাট নিয়ে গত সপ্তাহেই একদফা যৌথ পরিদর্শন হয়েছে। তারপর মোটামুটি দু’টি জমি চিহ্নিত। চুঁচুড়ার পুরনো লঞ্চঘাটে একটি জেটিঘাট হচ্ছেই। অন্যদিকে গঙ্গাপাড়ে হুগলির জেলখানা সংলগ্ন ঘাটটি পরিবহণ দপ্তরের পছন্দ। কিন্তু কাছে জেলখানা থাকার কারণে বিষয়টি নিয়ে কিঞ্চিৎ দ্বিমত আছে। জেলখানা কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তার প্রশ্নে আপত্তি তুলতে পারে এমন ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে দ্বিতীয় জায়গা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। একটি জেটিঘাট যেমন নৈহাটিকে জুড়বে, অন্যঘাট জেটিঘাটটি নৈহাটির রামঘাটকে জুড়বে। দু’টি নতুন জেটিঘাটেই যাত্রীদের সুবিধার যাবতীয় বন্দোবস্ত রাখা হচ্ছে। আধুনিক টিকিট কাউন্টার থেকে রাস্তা, শৌচাগার-বিশ্রামগার থেকে পানীয় জলের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকবে পুণ্যার্থীদের জন্য।