সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কাজের জায়গায় ফেরার ট্রেনের টিকিট কাটতে বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন পরিযায়ী শ্রমিক দুই বন্ধু। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না তাঁদের। জাতীয় সড়কের উপর অজানা গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু হল দু’জনেরই। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের নলহাটি থানার মহেশপুর গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম আবু বাক্কার সিদ্দিক(৩০) এবং আমিরুল শেখ(২৯)। আবু বাক্কারের বাড়ি নলহাটি থানার ভেলিয়ান গ্রামে এবং আমিরুল আমলাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দু’জনেই পেশায় গাড়ি চালক এবং হায়দ্রাবাদে কর্মরত ছিলেন। মাস দেড়েক আগে ছুটি কাটাতে বাড়ি এসেছিলেন তাঁরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আবারও হায়দ্রাবাদে কাজে ফেরার তোড়জোড় শুরু করেছিলেন দু’জনে। তবে, কিছুদিন ধরে চেষ্টা করেও ট্রেনের কনফার্মড টিকিট পাচ্ছিলেন না। অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লোহাপুরে তৎকাল টিকিট কাটার উদ্দেশে বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তাঁরা। রাত ১০টা নাগাদ মহেশপুর গ্রামের কাছে জাতীয় সড়কের উপর তাঁদের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশেই দুমড়ে-মুচড়ে পড়েছিল তাঁদের বাইকটি। খবর পেয়ে পুলিশ ও পরিবারের লোকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকে উদ্ধার করে রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জাতীয় সড়কের ওই নির্জন অংশে রাতের অন্ধকারে দ্রুতগতির কোনো যানবাহন তাঁদের বাইকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ঘাতক গাড়িটিকে চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় দুই পরিবারেই নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আবু বাক্কারের পরিবারে তাঁর স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে তিনটি ছোটো মেয়ে। অন্যদিকে, মৃত আমিরুলের দু’বছরের একটি ছেলে এবং মাত্র ছ’মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় দুই উপার্জনক্ষম যুবকের মৃত্যুতে দিশেহারা দু’টি পরিবার।