Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী ফণীন্দ্রচন্দ্র সেনের স্মৃতিমন্থন দুই নাতনির

কোচবিহারের প্রথিতযশা চিকিৎসক ডাঃ ফণীন্দ্রচন্দ্র সেন ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর দাদা রবীন্দ্রচন্দ্র সেনকে কালাপানি দিয়েছিল ব্রিটিশরা।

প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী ফণীন্দ্রচন্দ্র সেনের স্মৃতিমন্থন দুই নাতনির
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহারের প্রথিতযশা চিকিৎসক ডাঃ ফণীন্দ্রচন্দ্র সেন ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর দাদা রবীন্দ্রচন্দ্র সেনকে কালাপানি দিয়েছিল ব্রিটিশরা। অধুনা বাংলাদেশের ঢাকার বিক্রমপুরে এই সেন পরিবারকে ঘিরে ছিল অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের নানা কর্মকাণ্ড। ডাঃ ফণীন্দ্রচন্দ্র সেন সেই সময় তাঁর দাদা ও পারিবারিক আবহেই জড়িয়ে পড়েন বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে। ফলে চলে আসেন পুলিশের নজরে। জেল খাটতে হয়। পিতা কৈলাসচন্দ্র সেন উচ্চপদে চাকরিরত ছিলেন। শর্ত সাপেক্ষে, মুচলেকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে এনেছিলেন তিনি। ফণীন্দ্রচন্দ্রকে ডাক্তারি পড়তে কলকাতায় পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে চিকিৎসক হয়ে বদলি সূত্রে কোচবিহারে আসেন। এখানে জে ডি হাসপাতালে চাকরি করেছিলেন। পরে আবার বদলি হলে তিনি আর অন্যত্র যাননি। কোচবিহারে বিশ্বসিংহ রোডে ইকনমি ফার্মেসিতে তাঁর চেম্বার ছিল। সেখানেই দীর্ঘকাল মানুষের সেবায় নিযুক্ত ছিলেন।

Advertisement

১৯৯০ সালে তিনি প্রয়াত হন। তাঁর একমাত্র পুত্র দীপককুমার সেনের দুই মেয়ে অনিন্দিতা সেন ও দীপান্বিতা সেন কোচবিহারেই থাকেন। দেশবন্ধু মার্কেট সংলগ্ন কোচবিহার ক্লাবের উল্টো দিকে এখনও স্বাধীনতা সংগ্রামী ডাঃ ফণীন্দ্রচন্দ্র সেনের স্মৃতিকে তাঁরা রক্ষা করে চলেছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দেওয়া তাম্রপত্র, ঠাকুরদার ছবি সবই স্বযত্নে রয়েছে দুই নাতনির কাছে। ডাঃ ফণীন্দ্রচন্দ্র সেনের দাদা রবীন্দ্রচন্দ্র সেন নিঃসন্তান ছিলেন। তাঁর তাম্রপত্রও এই পরিবারের কাছেই রক্ষিত আছে।

বড় নাতনি অনিন্দিতা সেন বলেন, ঠাকুরদা ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করার পর ঢাকায় মেডিকেলে পড়া শুরু করেন। সঙ্গে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যান। সেই সময় তাঁকে জেল খাটতে হয়। তাঁর বাবা ছিলেন সাব জজ। ঠাকুরদা ঢাকায় থাকতে পারবেন না, এই মুচলেকা দিয়ে তাঁকে জেল থেকে বের করতে হয়েছিল। পরে তাঁকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই আরজি কর মেডিকেল কলেজ থেকে তিনি ডাক্তারি পাশ করেন। তিনি বিধানচন্দ্র রায়ের ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীতে মিলিটারিতে যোগ দিয়েছিলেন। দেশ ভাগের পর পরিবার এপারে চলে আসে। তিনি বদলি হয়ে জেডি হাসপাতালে চাকরির সূত্রে কোচবিহারে আসেন। এখানে তাঁর বিরাট পসার ছিল। তাই পরবর্তীতে আবার বদলি হলেও তিনি আর কোচবিহার থেকে যাননি। আমরা ছোটবেলা থেকে তাঁর কাছে স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু গল্প শুনেছি। আমার হাতেখড়িও ঠাকুরদার হাতে।

ছোট নাতনি দীপান্বিতা সেন বলেন, আমিও ছোটবেলায় ঠাকুরদাকে দেখেছি। আমি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখন তিনি প্রয়াত হন। ছোটবেলা থেকে তাঁর গল্প, আদর্শ আজও আমাদের পাথেয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ