Bartaman Logo
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নে জমি দান গোঘাটের গ্রামের দুই পরিবারের

গোঘাটের প্রত্যন্ত গ্রাম বদনগঞ্জে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নে জমি দান করেছে দুটি পরিবার। দান করা ৪৫ শতক জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নে জমি দান গোঘাটের গ্রামের দুই পরিবারের
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আরামবাগ: গোঘাটের প্রত্যন্ত গ্রাম বদনগঞ্জে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নে জমি দান করেছে দুটি পরিবার। দান করা ৪৫ শতক জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমাদের গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন জমির অভাবে ইনডোর পরিষেবা চালু হতে অসুবিধা হচ্ছিল। গ্রামের দু’টি পরিবার জমি দান করায় দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়ন হবে জেনে আমরা খুবই খুশি। ইনডোর পরিষেবা চালু হয়ে গেলে আমরা উপকৃত হব। আর অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে দূরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে না। গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক প্রশান্ত দিগার বলেন, তৃণমূল সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন করেনি। আমাদের সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবে। ওখানে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ইনডোর পরিষেবা চালু করা হবে। তিনটে শিফটে স্টাফ নিয়োগ করে ল্যাবরেটরি চালু করা হবে। আমরা বদনগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঢেলে সাজাব। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বছর আগে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি যখন চালু হয়, তখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী ছিল। বর্তমানে পরিকাঠামোর অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ধুঁকছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক রয়েছেন একজন, ফার্মাসিস্ট রয়েছেন একজন, নার্স একজন এবং গ্রুপ ডি কর্মী একজন। অথচ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির উপর ফুলুই, শ্যামবাজার, কয়াপাট, কৃষ্ণগঞ্জ সহ প্রায় ২৫ গ্রামের  হাজার হাজার বাসিন্দা নির্ভর করে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দা জগন্নাথ দাস বলেন, এখানে ভালো চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। অধিকাংশ বাসিন্দার বাদ দারিদ্রসীমার নীচে। নার্সিংহোমে চিকিৎসা করানোর মতো অর্থ না থাকায় তাঁরা সরকারি হাসপাতালের উপরই নির্ভর করেন।  এখানে ইনডোর পরিষেবা চালু হলে মামনুষের উপকার হবে। গ্রামের মহিলাদের এখানেই প্রসব হবে। ছোটোখাটো রোগ হলে এখানেই চিকিৎসা করাতে পারবেন। এছাড়াও সাপে কাটা রোগী এবং ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের এখানে চিকিৎসা হবে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নে ঘোষ এবং মণ্ডল পরিবার জমি দান করেছে। আমরা দ্রুত ওই জমিতে বিল্ডিং তৈরি করে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছি। জমিদাতা রামশম্ভু মণ্ডল ও নিত্যানন্দ ঘোষ বলেন, জমির অভাবে গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়ন থমকে ছিল। আমরা তাই স্বেচ্ছায় জমি 
দান করেছি। আশা করছি দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোর 
উন্নয়ন হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ