


বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: শুক্রবার রাত থেকে ফের উত্তপ্ত জাতিহিংসা বিধ্বস্ত মণিপুর। ইম্ফল পূর্বের খুরাই লামলং বাজার এলাকায় কার্ফু অমান্য করে মিছিল বের করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে। দু’পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। এরপর শনিবার বিকেলে ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কে ৫টি গাড়িতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ গেল পাঁচ জনের। জখম আরও পাঁচ।
নিহত ইয়ারুইংগাম ভাসুম থুইমি(৪২) ও স্ব. চিনাওশাং (৪৬) তাংখুল গোষ্ঠীর। ইম্ফল থেকে উখরুল জেলায় বাড়ি ফেরার পথে টি এম কাসোম গ্রামের কাছে তাঁদের গাড়িতে সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গিরা গুলি চালায় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, চিনাওশাং ভারতীয় সেনার নাগা রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত সেনা ছিলেন। তিনি তাঁর বাবাকে নিয়ে ইম্ফলে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। নিহতের বাবা স্ব. রুইছুমহাও এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না তার ছেলে আর নেই। ঘটনার ভয়াবহতা এখনও তাঁর চোখেমুখে। কান্নাভেজা গলায় তিনি জানান, ‘আমার ছেলে আমায় চিকিৎসার জন্য ইম্ফলে নিয়ে গিয়েছিল। ফেরার পথে হঠাৎই জঙ্গিরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমার ছেলের গায়ে গুলি লাগে। চোখের সামনে ও মারা গেল।’
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুর জেলায় এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে রকেট হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিজেপি শাসিত মণিপুর। ঘটনায় কুকি জঙ্গিদের দিকেই আঙুল তোলে মেইতেইরা। বিক্ষুব্ধ জনতা সিআরপিএফ ক্যাম্পে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পালটা সিআরপিএফের গুলিতে মৃত্যু হয় তিনজনের। এরইমধ্যে উপত্যকার কয়েকটি এলাকায় সীমিত কার্ফু শিথিলের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, থৌবাল ও কাকচিং জেলায় ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। তবে যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে এবং যেখানে বিক্ষোভ সবচেয়ে তীব্র, সেই বিষ্ণুপুর জেলায় ভোর পাঁচটা থেকে ১০টা পর্যন্ত কার্ফু শিথিল থাকবে। অন্যান্য জায়গায় কার্ফু শিথিল হলেও জনজীবন এখনও ছন্দে ফেরেনি। একাধিক স্কুল বন্ধ। মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও স্থগিত রয়েছে।