নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান এবং সংবাদদাতা কাটোয়া: চাকরি করেন বাংলাদেশে। আর সংসার পেতেছেন পূর্বস্থলীর কালেখাঁতলায়। মাঝে দু’দেশের সীমান্ত রয়েছে। পথে হাজার বাধা। তাতে কী! ভালোবাসা তো কোনও দিনই সীমানা মানেনি। প্রেমের উপাখ্যানগুলি সেই দৃষ্টান্তই রেখে গিয়েছে। আবার শুধু ভালোবাসা দিয়ে তো পেট চলে না। রোজগার দরকার। সেটা জানেন ভৃগুরাম দাসও। সেই কারণে তিনি বাংলাদেশের ভোলা জেলায় উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি ছাড়েননি। আবার এদেশের পূর্বস্থলীতে থাকা স্ত্রী, ছেলেকেও ছাড়েননি। স্কুলে ছুটি পেলেই এপারে এসে তিনি জমিয়ে সংসার করেন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভাগীরথীর পাড়ে ঘুরতেও যান। আবার ছুটি শেষ হলে তিনি পদ্মাপাড়ে চলে যান। এপর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু তিনি কোন দেশের নাগরিক? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। কারণ পূর্বস্থলীর কালেখাঁতলা বুথে তাঁর এপিক নম্বর ১০৯। আবার বাংলাদেশে তাঁর ভোটার কার্ডের নম্বর ৩৭৩। আধিকারিকরা তাঁর ‘দেশ’ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। তাঁর স্ত্রী সুলেখারানি দাস বলেন, স্বামী বাংলাদেশে শিক্ষকতা করেন। তিনি ওখানকারই বাসিন্দা। সেদেশের ভোটার কার্ড রয়েছে। ২৫ বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়েছিল। আমাদের ২৩ বছরের ছেলে আছে। বেশিরভাগ সময় ওখানে থাকেন। মাঝেমধ্যে এখানে আসেন। সংসারের খরচ দিয়ে যান। বহু বছর আগে এখানে এসে বিয়ে করেছিলেন। আমাদের সুখের সংসার। তিনি সীমান্তের ওপারে থাকলেও ভালোবাসায় টান পড়েনি। তবে, ভৃগুরাম দাসকে নিয়ে মাথাব্যথা বেড়েছে প্রশাসনের। কালনার মহকুমা শাসক শুভম আগরওয়াল বলেন, সব নথি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূর্বস্থলীর বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওই ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি। এলাকায় এরকম ভুয়ো ভোটার অনেক রয়েছে।



