Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূল প্রধানের সামনে বচসায় জড়াল বিজেপির দুই গোষ্ঠী, ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন পাড়ায় উত্তেজনা

তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে ‘ডিম থেরাপি’ দিতে গিয়ে তুমুল বচসায় জড়িয়ে পড়ল বিজেপি দুই গোষ্ঠী

তৃণমূল প্রধানের সামনে বচসায় জড়াল বিজেপির দুই গোষ্ঠী, ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন পাড়ায় উত্তেজনা
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে ‘ডিম থেরাপি’ দিতে গিয়ে তুমুল বচসায় জড়িয়ে পড়ল বিজেপি দুই গোষ্ঠী। এই ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ইসলামপুর গ্রামপঞ্চায়েতের নতুন পাড়ায়। স্থানীয় বুথ সভাপতি বিজেপির রঙ্গলাল সিংহ ও শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ অমল দাসের সঙ্গে প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপির অনিন্দিতা রায়বর্ধন ও তাঁর স্বামী তথা ইসলামপুর-২ নম্বর মণ্ডল কমিটির সাধারণ সম্পাদক অরুণ বর্ধনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ গিয়ে প্রধানকে উদ্ধার করে।

Advertisement

পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের ঘরের সমীক্ষার কাজ চলছে। এদিন নতুন পাড়ায় পঞ্চায়েত কর্মীদের সঙ্গে সমীক্ষার কাজ করার সময় প্রধান অসীমা পাল ও রঙ্গলাল সিংহ ও অমল দাস ছিলেন।
অন্যদিকে, অনিন্দিতা রায় বর্ধন ও তাঁর স্বামী অরুণ বর্ধন সেই সময় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল প্রধানকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। অফিসে গিয়ে জানতে পারেন প্রধান সমীক্ষার কাজ করছেন। সময় বিলম্ব না করে তিনি নতুনপাড়ায় পৌছান। সেখানে প্রধানের সঙ্গে অফিসের কর্মী ও কয়েকজন বিজেপি কর্মীরা আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সঠিক ভাবে সমীক্ষা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে তদারকি করছিলেন। এর ফলে বিজেপির দুই গোষ্ঠী সেখানে মুখোমুখি হয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়। এই সময় অফিস কর্মীরা সেখান থেকে চলে যান। প্রধান অসীমা পাল একটি বাড়ির ভিতরে আশ্রয় নেন। বিক্ষোভকারীরা হাতে ডিম নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রধানকে লক্ষ ডিম থেরাপি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সফল হয় নি।
অরুণ বর্ধন বলেন, প্রধান তিন বছর থেকে একাধিক অনিয়ম করেছেন। প্রকৃত দরিদ্র মানুষ আবাস প্রকল্পের সুবিধা পান নি। এবার আমাদের দলের কিছু লোককে লোভ দেখিয়ে সঙ্গে নিয়ে সমীক্ষা করছেন। দুর্নীতিগ্রস্থ প্রধানের সঙ্গে আমাদের দলের কিছু লোক, বুথ সভাপতি মিলে আছেন। সেই কর্মীদের বিরুদ্ধে আমি দলের উর্দ্ধতন নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ করবো। এদিন প্রধানকে ডিম থেরাপি  দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। কিন্তু তা করতে পারলাম না।
বুথ সভাপতি রঙ্গলাল সিংহ বলেন, ৮ আগষ্ট অরুণ বর্ধন স্থানীয়দের নিয়ে একটি বৈঠক ডেকেছিলেন। আমি সেই মিটিংয়ে যাই নি।
অমল দাস বলেন, আমরা বুথের কর্মী হিসেবে সমীক্ষায় সময় গিয়েছিলাম। যাতে প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত না হন। প্রধান ও অফিস কর্মীরা সমীক্ষা করছিলেন। তবে ডিম থেরাপির পরিকল্পনাকে আমি সমর্থন করি না।
প্রধান অসীমা পাল বলেন, বিজেপির লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে সমীক্ষা করছিলাম। যাতে স্বচ্ছ ভাবে সব কাজ হয়। তার পরেও ওঁরা দলবল নিয়ে এসেছেন। আমাকে ডিম থেরাপি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই তাঁরা এসেছিলেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ