Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নির্মীয়মাণ বাড়ি ভাড়া নিয়ে অস্ত্র তৈরির কারবার, জয়নগরে হাতেনাতে ধৃত দুই

নির্মীয়মাণ বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছিল আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারবার। নেট ঘেঁটে প্রিন্ট আউট দেখে অস্ত্র বানাচ্ছিল দুষ্কৃতীরা। চারিদিকে এমনভাবে গ্রিল সাজিয়ে রাখা হয়েছিল, বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো গ্রিল কারখানা।

নির্মীয়মাণ বাড়ি ভাড়া নিয়ে অস্ত্র তৈরির কারবার, জয়নগরে হাতেনাতে ধৃত দুই
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: নির্মীয়মাণ বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছিল আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারবার। নেট ঘেঁটে প্রিন্ট আউট দেখে অস্ত্র বানাচ্ছিল দুষ্কৃতীরা। চারিদিকে এমনভাবে গ্রিল সাজিয়ে রাখা হয়েছিল, বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো গ্রিল কারখানা। পুলিশি হানায় জয়নগর-মজিলপুর পুরসভা এলাকায় মিলল অস্ত্র তৈরির হদিশ। দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

Advertisement

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাসানপুরে বারুইপুর এসডিপিও অভিষেক রঞ্জনের নেতৃত্বে জয়নগর থানার পুলিশের টিম তল্লাশি অভিযানে নামে। সেখানেই একটি নির্মীয়মাণ বাড়ির দু’টি ঘরে তৈরি হচ্ছিল অস্ত্র। পুলিশ হাতেনাতে ধরে ফেলে এই কারবারের মাথা ও তার সঙ্গীকে। উদ্ধার হয় একাধিক যন্ত্রাংশ, একটি এক নলা বন্দুক, প্রায় দু’কেজি গান পাউডার, ড্রিলিং মেশিন। এছাড়া পাওয়া গিয়েছে নেট থেকে নামানো অস্ত্র তৈরির ফর্মুলার ১০-১২ পাতার প্রিন্ট। মঙ্গলবার অভিষেক রঞ্জন বলেন, এই কারবারের মূল পাণ্ডা ফিরোজ গাজি। তার সঙ্গীর নাম ভবেন পাল। দু’জনেই এলাকার বাসিন্দা। পুরসভা ও পুলিশের নাকের ডগায় কীভাবে অস্ত্র তৈরির কাজ চলছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, তিন মাস আগে হাসানপুরের এই নির্মীয়মাণ বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল অভিযুক্ত ভবেন পালের দাদা। তার খোঁজ করছে পুলিশ। রাস্তা থেকে কয়েক মিটার দূরে বাগানের ভিতরে এই বাড়ি। কাছাকাছি কোনও বাড়ি নেই। বাসিন্দারা বলেন, রাতে ওই বাড়িতে বাইরের লোকজন আসত। অস্ত্র তৈরি হতো জানতাম না। তদন্তকারী অফিসার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা এই ব্যাপারে কিছুই জানত না। তাঁরা জানত ফিরোজ ও ভবেন গ্রিল তৈরির কাজ করে। কয়েক মাস ধরে অস্ত্র তৈরি হচ্ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই ফিরোজ গাজিই জয়নগরের তৃণমূল নেতা সাইফুদ্দিন খুনের ঘটনায় যুক্ত। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। তবে কোথা থেকে কারা এই অস্ত্র তৈরির বরাত দিয়েছিল ফিরোজকে, তা এখনই জানাতে নারাজ পুলিশ। কোথায় অস্ত্র যেত এটাও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। কীভাবে স্থানীয় পুর প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ভাড়া বাড়িতে অস্ত্র তৈরি চলছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আতঙ্কিত বাসিন্দারা। 
জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুকুমার হালদার বলেন, আমরা কোনও দিনই টের পায়নি। লোকে বলত, গ্রিল তৈরি হয় বাড়িতে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ